২৭ লাখের অভিযোগ প্রমাণ হলে বেতের বাড়ি খাব, নাহলে ২৭ লাখ থাপ্পড় মারব, কুণালকে চ্যালেঞ্জ বিকাশরঞ্জনের
সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়
সুপার নিউমেরিক পোস্টে চাকরি সংক্রান্ত মামলাকে কেন্দ্র করে তৃণমূল মুখপাত্র কুনাল ঘোষ এবং মামলাকারীদের আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্যের বাদানুবাদ চরমে। বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য মামলাকারীদের থেকে ২৭ লাখ টাকা নিয়েছেন অথচ সুবিচার দিতে পারেননি। তাই বঞ্চিত চাকরি প্রার্থীরা হাইকোর্টে গিয়ে আন্দোলন দেখিয়েছেন, ঘেরাও অবস্থান করেছেন। এমনকি কুনাল ঘোষ এও দাবি করেছেন যে বিকাশ বাবুদের দল সিপিআইএম মুখ্যমন্ত্রী কে চিঠি দিয়ে এই চাকরি প্রার্থীদের চাকরি দেওয়ার জন্য আবেদন জানিয়েছিলেন। কিন্তু সুবিচার পাইয়ে দেওয়ার নামে শুধুই টাকা লুটেছেন বিকাশবাবুরা। আর কুনাল ঘোষের এই বক্তব্যের প্রেক্ষিতে অল আউট খেললেন বিকাশরঞ্জন। তাঁর চ্যালেঞ্জ, ” আমি যদি মামলাকারীদের কাছ থেকে ২৭ লাখ টাকা নিয়ে থাকি সেটা যদি কুনাল ঘোষ প্রমাণ করতে পারেন তাহলে ধর্মতলার বুকে দাঁড়িয়ে বেতের বাড়ি খাব। আর যদি প্রমান করতে না পারেন তাহলে নবান্নে কুনালকে তার পিসির পাশে বসিয়ে ২৭ লক্ষ থাপ্পর মারব।” তার দল সিপিআইএম এর নেতা সুজন চক্রবর্তী এই চাকরিপ্রার্থীদের চাকরি দেওয়ার আবেদন জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি দিয়েছেন কুনালের এই বক্তব্যের প্রেক্ষিতে বিকাশ রঞ্জন এর মন্তব্য ” যোগ্যতার নিরিখে মেধাভিত্তিক দুর্নীতিমুক্ত তালিকা তৈরি করে চাকরি দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। এই কথা যে কোন জমায়েতে গিয়ে যেকোনো মানুষ বলবেন। কুনাল ঘোষের মত মূর্খ লোক রাজনীতিতে আছেন এটা ভাবতেই কষ্ট হয়। আসলে এরা গুন্ডামি করবে আর সেই গুন্ডামি সবাইকে সহ্য করতে হবে তা হয় নাকি?”
উল্লেখযোগ্য, ২০১১ সালের রাজনৈতিক পালাবদলের পর একুশে জুলাইয়ের মঞ্চ থেকে তাঁকে আক্রমণ করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তারপর থেকে একাধিকবার মমতার কোপে পড়েছেন বিকাশ রঞ্জন। সম্প্রতি নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়াম থেকে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী কার্যত রাজনৈতিকভাবে বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্যকে এক ঘরে করার ডাক দিয়েছিলেন। তারই ফলশ্রুতি হিসেবে গত শুক্রবার হাইকোর্টে ঘেরাও বিক্ষোভ এবং কটুক্তির শিক্ষার অহন এসএসসি মামলায় মামলাকারীদের মূল আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য। বিকাশ বাবুর মতে ” আইনি লড়াইতে যখন পেরে উঠছেন না তখন ব্যক্তিগত কুৎসা ও ভয়-ভীতি দেখিয়ে শারীরিক নিগ্রহের পথ বেছে নিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়রা। সুপার নিউমেরিক পোস্টে যে আইনি লড়াই চলছে সেখানে ওরা ভালো ভালো আইনজীবী দিয়েছেন। আসলে ওরা বুঝতে পেরেছেন আইনের পথে এক্ষেত্রে কিছু করা যাবে না। অতএব যারা মামলা করছেন তাদেরকে ভয় দেখাও, এটাই নীতি।”
