নিশুতি রাতে মৃত্যু নেমে এলো আগুনের লেলিহান জিহ্বায়। ঘুমন্ত শহরের বুকে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ছিন্নভিন্ন হল ১৪টি প্রাণ। উত্তর কলকাতার মেছুয়াবাজারের ঋতুরাজ হোটেল পরিণত হল মৃত্যুপুরীতে। রান্নাঘরের একের পর এক গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে রাতটা যেন রূপ নিল এক বিভীষিকাময় দুঃস্বপ্নে।
৪২টি কক্ষে তখন বিশ্রামে ছিলেন ৮৮ জন অতিথি, কর্মী ৬০। হঠাৎ বিকট শব্দ, তারপর আগুনের তাণ্ডব। জেগে উঠার আগেই অনেকের নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসে ধোঁয়ার চাপে। কেউ ছাদে উঠে বাঁচার চেষ্টা করেন, কেউ জানলা ভেঙে লাফ দেন জীবন বাঁচাতে।
দমকলের ৩৫ জনের উদ্ধারে প্রাণ রক্ষা পেলেও মৃত্যু থামেনি। ১৪ জনের নিথর দেহ উদ্ধার হয়েছে, ১১ পুরুষ, ১ মহিলা, ১ বালক ও ১ বালিকা। এখনও পর্যন্ত মাত্র ৮ জনের পরিচয় শনাক্ত হয়েছে। বাকিরা অজ্ঞাত, পরিচয়হীন আগুনে পোড়া শরীর যেন প্রশ্ন তুলছে আমাদের দায়বদ্ধতার দিকে।
নিহতদের মধ্যে রয়েছেন, তামিলনাড়ুর দুই ভাইবোন পি রাউত (৩ বছর ৮ মাস) ও পি দিয়া (১০), প্রণয় পাঠক (১৩), আরাধ্যা আগরওয়াল (২২), দীপেন্দ্র রাম (৪৬), এস. মথু কৃষ্ণন (৬১), এবং আরও তিনজন অজ্ঞাতপরিচয়।
আহত ১৩ জনের মধ্যে ১২ জন ছাড়া পেয়েছেন। একজন ভর্তি রয়েছেন মেডিকেল কলেজে।
তদন্তে নেমেছে বিশেষ দল। মেয়র ফিরহাদ হাকিম, পুলিশ কমিশনার এবং দমকলের শীর্ষকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেছেন।
ঋতুরাজ হোটেল এখন শুধুই ধোঁয়া, ছাই আর আর্তনাদের ঠিকানা। রাতের শহর হারাল আরও কিছু চিরপরিচিত মুখ! তাদের গল্পগুলো রয়ে গেল অঙ্গার হয়ে।
