২০২৫ সালের পশ্চিমবঙ্গ মাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই শুরু হয়েছে চর্চা—কে এগিয়ে, মেয়েরা না ছেলেরা? শিক্ষাক্ষেত্রে লিঙ্গভিত্তিক প্রতিযোগিতা নতুন কিছু নয়, তবে প্রতি বছর এই পরিসংখ্যান নানা দিক থেকে শিক্ষাব্যবস্থার অগ্রগতিকে চোখে আনে। এবছরের ফলাফলে উঠে এসেছে একটি চমকপ্রদ চিত্র—যেখানে পরীক্ষায় বসার সংখ্যায় মেয়েরা এগিয়ে থাকলেও, পাশের হারে ছেলেরা এগিয়ে।
চলতি বছর মোট ৯,১৩,৮৮৩ জন পরীক্ষার্থী মাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়েছেন। এর মধ্যে মেয়ে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ৫,৪৩,৫৪৪ জন, যেখানে ছেলে পরীক্ষার্থী ৪,২৫,৮৮১ জন। পরিসংখ্যান বলছে, মেয়েরা ছেলেদের চেয়ে ১,১৭,৬৬৩ জন বেশি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। অর্থাৎ, অংশগ্রহণের দিক থেকে মেয়েরা যথেষ্ট উৎসাহ এবং অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছে।
তবে পাশের হার বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ছেলেরা মেয়েদের থেকে কিছুটা এগিয়ে। এবছর ছেলেদের পাশের হার ৮৯.১৯%, অন্যদিকে মেয়েদের পাশের হার ৮৪.৩১%। প্রায় ৪.৮৮ শতাংশ ব্যবধানে ছেলেরা মেয়েদের ছাপিয়ে গিয়েছে।
আরও যে তথ্য উঠে আসে মোট পাশের হার ৮৬.৫৬ শতাংশ, যা বিগত বছরের তুলনায় কিছুটা নিম্নমুখী হলেও সার্বিকভাবে এখনও ইতিবাচক। তবে শিক্ষাবিদদের মতে, মেয়েদের অংশগ্রহণের হার যেভাবে বাড়ছে, তাতে আগামী দিনে পাশের হারেও তার প্রতিফলন দেখা যাবে।
এবছর প্রথম হয়েছে উত্তর দিনাজপুর জেলার রায়গঞ্জ করোনেশন স্কুলের ছাত্র আদৃত সরকার। তার প্রাপ্ত নম্বর ৬৯৬, যা ৯৯.৪৩ শতাংশ। এই অভাবনীয় ফলাফল আরও একবার প্রমাণ করে দেয়, পরিশ্রম আর নিয়মিত চর্চাই সাফল্যের চাবিকাঠি।
মেয়েরা শিক্ষা গ্রহণে আগ্রহী হয়ে উঠছে, সমাজের নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও তারা বড় সংখ্যায় পরীক্ষায় বসছে। অন্যদিকে, ছেলেরা তুলনামূলকভাবে কম সংখ্যায় পরীক্ষায় বসলেও তারা ফলাফলে উন্নতি করছে। এটি সমাজের দুই লিঙ্গের শিক্ষার ভিন্ন ধারা ও বাস্তবতাকে তুলে ধরে।
তবে একটি বিষয় স্পষ্ট—পরীক্ষার ময়দানে লিঙ্গ নয়, পরিশ্রম আর মনোযোগই সাফল্যের মূল চাবিকাঠি। আগামী দিনে এই ব্যবধান যেন আরও ঘুচে যায়, সেই দিকেই তাকিয়ে রয়েছে সমগ্র শিক্ষামহল।
