মাধ্যমিক ২০২৫-এর ফল প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই রাজ্যের শিক্ষা মহলে শুরু হয়েছে উৎসবের আবহ। প্রত্যাশা অনুযায়ী এবারও রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে উঠে এসেছেন একঝাঁক কৃতি ছাত্রছাত্রী, যারা নিজেদের কঠোর পরিশ্রম আর অধ্যবসায়ের ছাপ রেখে গিয়েছেন ফলাফলে। এই তালিকায় সবার শীর্ষে রয়েছেন উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জ করোনেশন হাইস্কুলের ছাত্র অদৃত সরকার।
৯৯.৪৩ শতাংশ নম্বর পেয়ে মাধ্যমিকে প্রথম হয়েছেন অদৃত। তাঁর প্রাপ্ত নম্বর ৬৯৬। প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত অবস্থানে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পেরে গর্বিত অদৃত, একই সঙ্গে উচ্ছ্বসিত তাঁর পরিবার, বিদ্যালয় এবং গোটা উত্তর দিনাজপুরবাসী। মাধ্যমিকের মতো রাজ্যস্তরের পরীক্ষায় এমন সাফল্য নিঃসন্দেহে উদাহরণ হয়ে থাকল আগামী প্রজন্মের জন্য।
অন্যদিকে, পাশের হারে সবচেয়ে ভালো ফল করেছে পূর্ব মেদিনীপুর। এখানে মোট পাশের হার ৯৬.৪৬ শতাংশ, যা রাজ্যের মধ্যে সর্বোচ্চ। ছাত্রছাত্রীদের ধারাবাহিক উন্নতি এবং জেলা প্রশাসনের তৎপরতায় এই ফলাফল এসেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
এবারের মাধ্যমিকের শীর্ষ দশে একাধিক ছাত্রছাত্রী রয়েছেন সম্মিলিতভাবে। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন রামকৃষ্ণ মিশন বিদ্যামন্দিরের অনুভব বিশ্বাস এবং বাঁকুড়া বিষ্ণুপুর হাইস্কুলের সৌম্য পাল, যাঁরা দু’জনেই পেয়েছেন ৬৯৪ নম্বর।
তৃতীয় স্থানে বাঁকুড়ার কোতুলপুর সরোজ বাসিনী বালিকা বিদ্যালয়ের ছাত্রী ঈশানী চক্রবর্তী, যার প্রাপ্ত নম্বর ৬৯৩।
চতুর্থ স্থানে রয়েছেন দু’জন—বর্ধমানের নিরোল উচ্চ বিদ্যালয়ের মহম্মদ সেলিম এবং পূর্ব মেদিনীপুরের কন্টাই মডেল ইনস্টিটিউটের সুপ্রতিক মান্না। তাঁদের দু’জনেরই প্রাপ্ত নম্বর ৬৯২।
পঞ্চম স্থানেও জায়গা করে নিয়েছেন চারজন—গৌরহাটি হরদাস ইনস্টিটিউশনের সিনচ্যান নন্দী, কামারপুকুর রামকৃষ্ণ মিশনের চৌধুরী মহম্মদ আসিফ, ইটাচুনা শ্রী নারায়ণ ইনস্টিটিউশনের দীপ্তজিৎ ঘোষ, এবং নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশনের সোমতীর্থ করণ। প্রত্যেকের নম্বর ৬৯১।
ষষ্ঠ থেকে দশম স্থান পর্যন্তও বহু প্রতিভাবান ছাত্রছাত্রী জায়গা করে নিয়েছেন—ফালাকাটা, গঙ্গারামপুর, টাকি, বাঁকুড়া, হুগলি, কলকাতা, নদিয়া, পশ্চিম মেদিনীপুর সহ রাজ্যের বিভিন্ন জেলার নাম উঠে এসেছে এই কৃতী তালিকায়।
এই বছর মাধ্যমিকে ছাত্রছাত্রীদের সাফল্য প্রমাণ করল, রাজ্যের শিক্ষা পরিকাঠামো ও প্রস্তুতির মান ক্রমাগত উন্নতির দিকে। রাজ্যজুড়ে শিক্ষাবিদেরা মনে করছেন, এই ফলাফল নতুন প্রজন্মকে আরও আত্মবিশ্বাসী করে তুলবে এবং আগামীদিনে উচ্চশিক্ষার পথে তাদের পাথেয় হয়ে থাকবে।
