রোদ ঝলমলে সকালের সাধারণ এক যাত্রা হঠাৎ পরিণত হল বিভীষিকার সাক্ষাৎকারে। রাস্তার পাশে পড়ে থাকা একটি লাল রঙের ট্রলি ব্যাগ যেন মুখ খুলে দিল এক ভয়াবহ গল্প। উত্তর দিনাজপুর জেলার ইসলামপুর থানার সোনাখোদা এলাকার বাইপাস সংলগ্ন ভুট্টা খেত থেকে এক অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির মৃতদেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা অঞ্চলে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, শুক্রবার সকালে এক স্থানীয় ব্যক্তি বাজারের দিকে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে ভুট্টা ক্ষেতে একটি অস্বাভাবিকভাবে রাখা লাল ট্রলি ব্যাগ দেখে তাঁর সন্দেহ হয়। প্রথমে বিষয়টিকে অস্বাভাবিক বলে মনে হলেও, কয়েক মুহূর্ত পর তাঁর কৌতূহল আতঙ্কে রূপ নেয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের ডেকে আনলে তারা সবাই মিলে পুলিশে খবর দেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘটনাস্থলে পৌঁছয় ইসলামপুর থানার পুলিশ।
পুলিশ ব্যাগটি খুলে দেখে, ভেতরে রয়েছে একটি মধ্যবয়সী পুরুষের মৃতদেহ। মৃত্যুর কারণ বা পরিচয়—কোনোটাই স্পষ্ট নয় এখনো। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতের আনুমানিক বয়স ৪৫ বছর। দেহটি পাঠানো হয়েছে ইসলামপুর মহকুমা হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য।
স্থানীয় বাসিন্দা অমিত পাল জানান, “আমি বাজার যাচ্ছিলাম। হঠাৎ দেখি একটা বড় লাল ট্রলি পড়ে আছে। একটু অদ্ভুত লেগেছিল। তবে ভয়ে না গিয়ে এগিয়ে যাই বাজারে। পরে বাড়ি ফিরে শুনি, সেই ট্রলির ভিতর একটা বডি পাওয়া গেছে! জীবনে এই প্রথম এমন অভিজ্ঞতা হল।”
এই ঘটনার পর পরেই অতীতের সেই কুখ্যাত কলকাতার ট্রলি ব্যাগ হত্যার স্মৃতি উসকে উঠেছে সাধারণ মানুষের মনে, যেখানে প্রৌঢ়া এক মহিলার দেহ টুকরো করে রাখা হয়েছিল ট্রলির ভেতর। এবারও সেই একই রং, একই বহনযোগ্যতা—কিন্তু আরও এক রহস্যময় গল্প।
এখনও পর্যন্ত মৃতের পরিচয় জানা যায়নি, তবে পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, তারা সমস্ত দিক খতিয়ে দেখছে। এলাকায় বসানো হয়েছে চেকপোস্ট, তল্লাশি চলছে সিসিটিভি ফুটেজ ও নিখোঁজ ডায়েরির উপর ভিত্তি করে। পুলিশের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, “এই হত্যাকাণ্ড পরিকল্পিত কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে যে পদ্ধতিতে দেহ ফেলে রাখা হয়েছে, তাতে অপরাধী তার চিহ্ন লুকোতে চেয়েছিল বলেই মনে হচ্ছে।”
পুলিশের তদন্ত জারি রয়েছে। এদিকে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্কের পাশাপাশি উঠছে একটাই প্রশ্ন—এত বড় ব্যাগে এমন লাশ এল কোথা থেকে? কে সেই খুনি, যে লাল ট্রলির আড়ালে রেখে গেল তার হিংস্রতার চিহ্ন?
