সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়
‘ডেস্টিনেশন বেঙ্গল’-এ নয়া পালক। দেশের পর্যটন মানচিত্রে বিদেশি পর্যটকদের কাছে সবচেয়ে লোকপ্রিয় রাজ্য হিসেবে তৃতীয় স্থানে উঠে এল পশ্চিমবঙ্গ। জাতীয় পর্যটনের তথ্য অনুযায়ী পর্যটন সৌন্দর্যে বিদেশি পর্যটকদের কাছে ‘দার্জিলিং টু দীঘা’-র বঙ্গভূমি দেশের অন্যান্য সমৃদ্ধশালী রাজ্যকে পিছনে ফেলে তিন নম্বরে উঠে এসেছে। মহারাষ্ট্র ও গুজরাটের পর বাংলায় বিদেশি পর্যটকদের কাছে সবচেয়ে প্রিয় জায়গা বলে বিবেচিত জানিয়েছে কেন্দ্রীয় পর্যটন মন্ত্রক। “ইন্ডিয়া ট্যুরিজম ডেটা কমপেনডিয়াম ২০২৪” নামে
সম্প্রতি কেন্দ্রীয় পর্যটন মন্ত্রকের প্রকাশিত একটি পরিসংখ্যান ভিত্তিক রিপোর্টের তথ্য বলছে যে মহারাষ্ট্র এবং গুজরাটের পর বাংলা তৃতীয় স্থানে রয়েছে। কেন্দ্রীয় পর্যটন মন্ত্রকের প্রকাশিত রিপোর্ট বলছে যে ২০২৩ সালে বিদেশ থেকে ভারতে আসা পর্যটকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পর্যটক মহারাষ্ট্রে এসেছেন। যেখনে ৩.৩৯ মিলিয়ন ভ্রমণপিপাসু পর্যটক এসেছেন যা প্রায় মোট পর্যটকের ১৬.৩৯%। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে নরেন্দ্র মোদির রাজ্য গুজরাট। সেখানে আসা বিদেশী পর্যটকদের সংখ্যা হল ২.৮১ মিলিয়ন অর্থাৎ মোট ১৪.৬০%। তবে বাংলার মাটিতে বিদেশি পর্যটকদের পা পড়েছে ১৪.০৮% মোট পরিসংখ্যান অনুযায়ী ২.৭১ মিলিয়ন। পাহালগাঁও কাণ্ডের পর ভ্রমণপিপাসু দের কাছে কাশ্মীর উপত্যকা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হলেও রূপসী বাংলার পর্যটন মনের খোরাক মিটিয়েছে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের।
রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পর ২০১৩ সালে বিদেশী পর্যটকদের আসার বিচারে পশ্চিমবঙ্গ ছিল ১০ টি সেরা রাজ্যের মধ্যে ৬ নম্বর তালিকায়। তৎকালীন সময়ে মহারাষ্ট্র, তামিলনাড়ু, দিল্লি,উত্তর প্রদেশ এবং রাজস্থান ছিল বিদেশী পর্যটকদের পছন্দের তালিকায় প্রথম পাঁচে। পর্যটন বান্ধব পরিবেশ না থাকায় বাংলায় বিদেশি পর্যটকদের সংখ্যা ছিল খুবই কম। আন্তর্জাতিক মানের পরিকাঠামোর অভাবে বিদেশী পর্যটক বাংলা থেকে একসময় মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিলেন। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লাগাতার পর্যটন কেন্দ্রগুলি উপরে জোর দেওয়ার ফলে ২০১৯ সালে কিছুটা উন্নতি হয়ে ৫ নম্বরে উঠেছিল বাংলা। পরে ২০২২ সালে বিদেশি পর্যটকদের পছন্দের তালিকায় তৃতীয় স্থানে চলে আসে বাংলা। তখন তার আগে ছিল শুধু দিল্লি এবং উত্তরপ্রদেশ। বাংলার রিচ কালচার, ডাইভারসিটি,এবং হেরিটেজ বিদেশী পর্যটকদের পছন্দের অন্যতম গন্তব্য হয়ে উঠছে। বিদেশী পর্যটকদের কাছে আন্তর্জাতিক ভৌগোলিক অবস্থান বাংলাকে এগিয়ে দিয়েছে বলে মত বিশেষজ্ঞদের। এবার প্রথম ও দ্বিতীয় স্থানে রাজ্য বদল হলেও তৃতীয় স্থানে নিজেদের জায়গা ধরে রেখেছে পশ্চিমবঙ্গ। তবে রাজ্য সরকার পর্যটন দফতরকে ঢেলে সাজানোর জন্য পরিকল্পনার প্রতিফলন ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। দেশের মধ্যে বাংলা বিদেশিদের পছন্দের তালিকায় তৃতীয় স্থান গ্রহণ করা নিশ্চিত ভাবে বাংলার পর্যটন শিল্পকে আরো এগিয়ে নিয়ে যাবে বলে আশাবাদী রাজ্যের পর্যটন দফতরও।
