সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়
দিঘায় নবনির্মিত জগন্নাথ মন্দিরের বিগ্রহ পুরী থেকে আনা দারুক আর দিয়ে তৈরীর যে অভিযোগ উঠেছিল এবার সেই অভিযোগ নস্যাৎ করলো ওড়িশা সরকার। ওড়িশার আইনমন্ত্রী পৃথ্বীরাজ হরিচন্দন একটি বিবৃতিতে জানিয়ে দিয়েছেন ” পুরীর মন্দিরের দারুন বা নিমকাঠ দিয়ে দিঘার জগন্নাথ মন্দিরের যে বিগ্রহ তৈরীর অভিযোগ উঠেছিল তা ঠিক নয়। নবকলের বাড়ির কার্ড দিয়ে আড়াই ফুট উচ্চতার বিগ্রহ তৈরি করা সম্ভব নয়।” অর্থাৎ গতকাল পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবিকেই সিলমোহর দিল ওড়িশা সরকার। সেবাযেত, দয়িতাপতি ও ভাস্কর্য সংগঠনগুলির সঙ্গে আলোচনার পর এই বিবৃতি দিয়ে ওড়িশার আইনমন্ত্রী অবশ্য এ বিষয়ে পদক্ষেপের কথাও জানান। ” এবার থেকে সমস্ত দারুখন্ড দারু ঘরের আওতায় আনা হবে। এখনো পর্যন্ত বেশ কিছু দারুকাঠ দয়িতাপতিদের কাছে আছে। সেগুলোর সঠিক হিসাব করে দারু ঘরে এনে রাখা হবে।” জানিয়েছেন ওড়িশার আইনমন্ত্রী পৃথ্বীরাজ হরিচন্দন।
উল্লেখযোগ্য, দিঘার জগন্নাথ মন্দির বিগ্রহ বিতর্কে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিলেন ওড়িশার আইনমন্ত্রী। এরপর পুরীর জগন্নাথ ধাম কর্তৃপক্ষ অভিযুক্ত দয়িতাপতি তথা প্রবীণ সেবায়েত রাজেশ ওরফে রামকৃষ্ণ দাস মহাপাত্র কে শো-কজ বৈঠকে ডাকা হয়। বৈঠকে রাজেশ দয়িতাপতি সেভাবে মুখ না খুললেও অন্যান্য সেবায়েতরা এই অভিযোগ অস্বীকার করেন। অন্যদিকে যারা পুরীর জগন্নাথ ধামে কাঠের কাজ করেন সেই মহান সেবকরাও জানিয়ে দিয়েছেন যে শ্রী ক্ষেত্রের দারুকাঠ দিয়ে দিঘার জগন্নাথ মন্দিরের ওই বিগ্রহ বানানো সম্ভব নয়। এদিকে গতকাল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন দীঘার জগন্নাথ মন্দিরের বিদ্রোহের জন্য পুরী থেকে কোন নিমকাঠ আনা হয়নি। ওই নিমকাঠ রাজেশ দয়িতাপতিই এনেছেন তবে তা পুরি থেকে নয়, সাফ জানান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অন্যদিকে পুরীর জগন্নাথধামে যে দারু কাঠ গচ্ছিত থাকে সেখানে কতগুলি দারুকাঠ রয়েছে এবং সেগুলির লম্বা-চওড়া কতটা তা নির্দিষ্টভাবে তদন্ত করে দেখার দাবি উঠেছে। সব মিলিয়ে বিগ্রহ বিতর্কের জেরে পুরীর জগন্নাথ ধাম কর্তৃপক্ষ রাজেশ দয়িতাপতিকে এক সপ্তাহের শোকজ নোটিশ ধরিয়েছে। যেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, জগন্নাথ মন্দির আইন অনুযায়ী ব্যাখ্যা সন্তোষজনক না হলে প্রয়োজনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। অবশ্য ওড়িশার আইনমন্ত্রী পৃথ্বীরাজ হরিচন্দনের এই বিবৃতি বিগ্রহ বিতর্কে কতটা সমাধান করতে পারে এবং রাজেশ দয়িতাপতিকে কতটা স্বস্তি দেয় তা নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে।
