সীমান্তে পাকিস্তানের লাগাতার গুলিবর্ষণের মধ্যেই বড় সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্র। দেশের সব রাজ্যে একযোগে ‘মক ড্রিল’ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্তকে সাধারণ কোনও উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে না। বরং, কূটনৈতিক ও প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তানের উসকানির কড়া জবাব দেওয়ার প্রস্তুতি হিসেবেই দেখা হচ্ছে এই মহড়াকে।
গত ১১ দিন ধরে নিরবচ্ছিন্নভাবে নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর গুলি চালিয়ে চলেছে পাকিস্তান। জওয়ানদের পাল্টা জবাবের পাশাপাশি দিল্লিতে দফায় দফায় বৈঠকে বসছেন উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা। এর মধ্যেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক রাজ্যগুলিকে জানিয়েছে, আগামী বুধবার, ৭ মে, দেশের ২৪৪টি জেলায় বড়সড় মহড়ার আয়োজন করা হবে। ১৯৭১ সালের ভারত-পাক যুদ্ধের সময় রাজ্যজুড়ে এমন মহড়া হয়েছিল। তারপর এই প্রথমবার এতটা বিস্তৃত পরিসরে এই ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
বলা হয়েছে, এদিন বাজবে এয়ার রেড সাইরেন, অন্ধকার করে ফেলা হবে শহরের আলো, ব্ল্যাকআউট ঘটানো হবে—যাতে রাতের এয়ারস্ট্রাইকের পরিস্থিতির অনুশীলন করা যায়। স্কুল, কলেজ, অফিস এবং কমিউনিটি সেন্টারে চলবে বিশেষ ওয়ার্কশপ। সেখানে সাধারণ মানুষকে শেখানো হবে, হামলার সময় মাথা ঠান্ডা রেখে কীভাবে আশ্রয় নিতে হয়, কীভাবে নিজেকে ও অন্যকে রক্ষা করতে হয়, আর কীভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা করতে হয়।
এনসিসি এবং নেহরু যুব কেন্দ্র সংগঠনের সদস্যরাও অংশ নেবেন এই ড্রিলে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলিতে কীভাবে দ্রুত উদ্ধারকাজ চালাতে হয়, সাধারণ মানুষকে কীভাবে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যেতে হয়, তাও শেখানো হবে।
অত্যন্ত গোপনীয়ভাবে দেশের গুরুত্বপূর্ণ ইনস্টলেশন যেমন মিলিটারি বেস, পাওয়ার প্ল্যান্ট এবং স্ট্র্যাটেজিক ভবনগুলো ঢেকে ফেলা হবে যাতে সেগুলি স্যাটেলাইটে ধরা না পড়ে। সব মিলিয়ে কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্ত পাকিস্তানকে একটি স্পষ্ট বার্তা—যুদ্ধ যদি চায়, ভারত তৈরি।
