দেশের বিচারব্যবস্থা ঘিরে যখন বিশ্বাস ও নিরপেক্ষতা নিয়ে বারবার প্রশ্ন উঠছে, ঠিক তখনই এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ করল ভারতের সর্বোচ্চ আদালত। সুপ্রিম কোর্টের ২১ জন বিচারপতি তাঁদের ব্যক্তিগত সম্পত্তির সম্পূর্ণ বিবরণ স্বেচ্ছায় প্রকাশ করেছেন। ইতিমধ্যে এই হিসাব আপলোড করা হয়েছে সুপ্রিম কোর্টের সরকারি ওয়েবসাইটে, যা সাধারণ মানুষের কাছে সম্পূর্ণভাবে উন্মুক্ত।
এই সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে একটি তাৎপর্যপূর্ণ পটভূমি। দিল্লি হাইকোর্টের বিচারপতি যশবন্ত বর্মার বাসা থেকে বিপুল পরিমাণ নগদ উদ্ধার হওয়ার পর গোটা দেশের বিচারব্যবস্থার নিরপেক্ষতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়। সেই প্রেক্ষিতে চলতি বছরের ১ এপ্রিল সুপ্রিম কোর্টে সমস্ত বিচারপতিদের নিয়ে একটি বৈঠক হয়, যেখানে বিচারপতিদের ব্যক্তিগত সম্পত্তির তথ্য প্রকাশ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
প্রথম ধাপে এই সিদ্ধান্ত অনুসরণ করে প্রধান বিচারপতি সহ মোট ২১ জন বিচারপতি তাঁদের সম্পত্তির বিবরণ তুলে ধরেছেন। বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টে বিচারপতির সংখ্যা ৩৩। অর্থাৎ এক তৃতীয়াংশ বিচারপতিরা এখনও সেই তথ্য প্রকাশ করেননি, তবে ভবিষ্যতে তাঁরাও এই উদ্যোগে সামিল হবেন বলেই আশা করা যায়।
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খন্নার কাছে রয়েছে একটি মারুতি সুইফট গাড়ি। তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে রয়েছে প্রায় ৫৫ লক্ষ টাকা, পিপিএফ ও জিপিএফ অ্যাকাউন্ট মিলিয়ে আরও রয়েছে দুই কোটির বেশি সঞ্চয়। এছাড়াও, বিভিন্ন জায়গায় তাঁর মালিকানাধীন বাড়ি ও ফ্ল্যাট রয়েছে, যেগুলোর বিবরণও প্রকাশ করা হয়েছে।
এই তালিকায় রয়েছেন আগামী প্রধান বিচারপতি হতে চলা বিচারপতি বি আই গভাই-ও। তিনি মহারাষ্ট্রে অবস্থিত তাঁর পৈতৃক সম্পত্তি, মুম্বাইয়ের বান্দ্রায় তাঁর ফ্ল্যাটসহ যাবতীয় স্থাবর সম্পদের বিস্তারিত বিবরণ সামনে এনেছেন।
উল্লেখ্য, বিচারপতিদের সম্পত্তি প্রকাশের এই উদ্যোগ একেবারেই প্রথম নয়। ১৯৯৭ সালে তৎকালীন প্রধান বিচারপতি জেএস বর্মার সময় প্রথম এমন আলোচনা হয়, যদিও তখন তা ছিল একেবারে ঐচ্ছিক। ২০০৯ সালেও এমন একটি প্রস্তাব আসে, যেখানে বিচারপতিরা ইচ্ছা করলে তাঁদের সম্পত্তির হিসাব প্রকাশ করতে পারতেন। তবে এবার এই পদক্ষেপ আরও সংহত ও কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিচারব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা ফেরাতে এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এই উদ্যোগ এক বড় মাইলফলক হতে চলেছে। শুধু তথ্য প্রকাশ নয়, বরং এক নতুন বিচার-সংস্কৃতির সূচনা বলেই অনেকে মনে করছেন।
