ভারত পাক চরম উত্তেজনার মধ্যে মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে ফের বৈঠক করলেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল।গত ৪৮ ঘণ্টায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে এই নিয়ে দ্বিতীয় বৈঠক করলেন তিনি। ইতিমধ্যেই গোটা দেশ জুড়ে সিভিল ডিফেন্স নিরাপত্তা মহড়ার কথা ঘোষণা করা হয়েছে। সেই পরিপ্রেক্ষিতে এদিনের মোদী-ডোভালের বৈঠক বেশ গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।
২০১৯-র পুলওয়ামার পর দেশে সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসবাদী হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন ২৬ জন সাধারণ মানুষ। ২২ এপ্রিল জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে ভয়াবহ সন্ত্রাসবাদী হামলায় নিহতদের বেশিরভাগই ছিলেন সাধারণ পর্যটক।প্রথমেই এই হামলার দায় স্বীকার করে দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট, যা পাকিস্তান-ভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তৈবা’র একটি শাখা।
ভারত দাবি করেছে, এই হামলার পিছনে রয়েছে পাকিস্তানের গভীর রাষ্ট্রযন্ত্র, যা বহুবার জঙ্গিদের মদত দেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত। পাকিস্তান অবশ্য তাদের জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করে আন্তর্জাতিক তদন্তের দাবি জানিয়েছে এবং রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে বিষয়টি তুলেছে। তবে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে পাকিস্তানের যুক্তি বিশেষ গুরুত্ব পায়নি।বরং পরিষদ পাকিস্তানকেই প্রশ্ন করে, কেন সাধারণ মানুষ ও পর্যটকদের টার্গেট করা হল।
ইতিমধ্যেই এই হামলার জবাবে ভারত বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে।গত কয়েক দিনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং, চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ জেনারেল অনিল চৌহান, সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর প্রধানদের সঙ্গে একাধিক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেছেন।সূত্রের খবর, লস্কর-ই-তৈবা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের জন্য প্রস্তুতি জোরদার করা হচ্ছে।
ভারত যেকোনও সময়ে হামলা চালাতে পারে এমন আতঙ্ক তারা করে বেড়াচ্ছে পাকিস্তানকে। পাক প্রতিরক্ষামন্ত্রী খোয়াজা আসিফসহ অনেক নেতাই প্রতিদিন অন্তত একবার করে সতর্কবার্তা দিয়ে চলেছেন। আইএসআই প্রধান আসিম মালিককে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ করেছে পাকিস্তান।পাক প্রতিরক্ষামন্ত্রী খোয়াজা আসিফ ফের দাবি করেছেন, নিয়ন্ত্রণরেখায় যে কোনও সময় ভারত হামলা চালাতে পারে।
পাকিস্তান-সমর্থিত সন্ত্রাসবাদী হামলার পরিপ্রেক্ষিতে ভারতের সম্ভাব্য পাল্টা পদক্ষেপ ঘিরে যখন জোর জল্পনা চলছে, সেই সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালের মধ্যে মঙ্গলবার সকালে এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হয়েছে।গত ৪৮ ঘণ্টায় এই নিয়ে দ্বিতীয়বার অজিত ডোভাল প্রধানমন্ত্রীকে নিরাপত্তা পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে অবহিত করেছেন। এর পাশাপাশি দেশের সমস্ত রাজ্যে বুধবার প্রথমবারের মতো ১৯৭১ সালের যুদ্ধের পর আবারও ‘সিভিল ডিফেন্স’ মহড়া আয়োজন করা হচ্ছে, যার মূল লক্ষ্য শত্রু আক্রমণের সময় জনগণের সুরক্ষা নিশ্চিত করা।মনে করা হচ্ছে, শীঘ্রই সন্ত্রাসের মদতদাতাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে পারে ভারত।প্রধানমন্ত্রী বারবার বিভিন্ন ভাষণে বলছেন, ‘দোষীদের সাজা দেওয়া হবেই’। এহেন পরিস্থিতিতে মোদীর প্রতিটি বৈঠক নিয়েই জল্পনা এখন তুঙ্গে।
