দীঘায় দিলীপ কাণ্ডে রাজ্য রাজনীতি উত্তাল হওয়ার পর বৈঠকে বসল বিজেপি। মঙ্গলবার দুদিন ব্যাপী বিজেপির এই বৈঠকের প্রথম দিনটি ছিল সল্টলেকে।রাজ্য নেতাদের সঙ্গে এই বৈঠকে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের তরফে অমিত ম্যালব্য ছাড়াও ছিলেন মঙ্গল পান্ডে। রাজ্য নেতাদের মধ্যে এদিনের বৈঠকে ছিলেন রাহুল সিনহা, শুভেন্দু অধিকারী সহ একাধিক সাংসদ ও বিধায়করা। দিলীপ নিয়ে চাপানউতোর আবহে বঙ্গ বিজেপির এই বৈঠক তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনীতির কারবারিরা।
জানা গেছে মূলত দুটি বিষয় নিয়ে আজকের বৈঠকে আলোচনা হয়। প্রথম বিষয়ে আলাদা আলাদা করে প্রত্যেক জন প্রতিনিধি ও নেতাদের ডেকে পাঠান কেন্দ্রীয় দুই নেতা।তাদের জিজ্ঞেস করা হয় এখন বর্তমানে কোন বিষয় নিয়ে আপনরা আন্দোলন চান।পাশাপাশি কোন বিষয় নিয়ে রাজ্যে আন্দোলন করলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারকে চাপে ফেলা যাবে। তাতে একাধিক নেতারা তারা তাদের মতো করে ব্যাখ্যা দেন ও বক্তব্য পেশ করেন।
এছাড়াও তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে রাজ্য নেতাদের জিজ্ঞেস করা হয় কাকে আপনারা রাজ্য সভাপতি চান।সেটা নিয়েও তারা তাদের মত করে নাম জমা দিয়েছেন। প্রসঙ্গত বিজেপির বর্তমান রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার এদিনের বৈঠকে প্রথম থেকে ছিলেন না। বৈঠকের একদম শেষ পর্যায়ে এসে পৌঁছান তিনি।সভাপতি বদলের প্রাক্কালে এখন এই বিষয় নিয়ে আলদা আলাদা করে নেতাদের জিজ্ঞেস করা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
বছর ঘুরলেই রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন।তার আগে দিলীপ ঘোষকে নিয়ে চাপানউতোরে রীতিমত অস্বস্তিতে রাজ্য বিজেপি।গত ৩০ এপ্রিল দিঘায় জগন্নাথ মন্দিরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দিলীপের সাক্ষাৎকে বিজেপির একাধিক নেতা ভাল চোখে দেখেননি। প্রায় আড়াআড়ি ভাগ হয়ে গেছে দল। ফের সামনে চলে এসেছে নতুন পুরাতন দ্বন্দ্ব।এত বড় নির্বাচনের আগে এমন ছন্নছাড়া চেহারা ও দলের মধ্যেই বিরোধ দেখে প্রমাদ গুণছে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বও। সম্ভবত এমন পরিস্থিতিতে রাজ্য সভাপতি বাছাই নিয়ে সাবধানে দলের নেতা ও কর্মীদের মনোভাব বুঝে নেওয়ার পথেই হাঁটছেন তারা।
Leave a comment
Leave a comment
