মাত্র ৫০ দিনের ব্যবধানে প্রকাশিত হল ২০২৫ সালের পশ্চিমবঙ্গ উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফল। রাজ্যজুড়ে জারি হওয়া এই শিক্ষামূলক উৎসব যেমন পরিশ্রমের স্বীকৃতি নিয়ে আসে, তেমনই উঠে আসে সমাজের নানা স্তরের শৈক্ষিক উন্নতির চিত্র। পর্ষদের দাবি, কোভিড পরবর্তী সময়ে এবারই প্রথম সর্বোত্তম ফলাফল সামনে এসেছে। আর সেই সাফল্য বিশ্লেষণে উঠে এসেছে কিছু তাৎপর্যপূর্ণ দিক—সংখ্যায় এগিয়ে মেয়েরা, তবে পাশের হারে কিছুটা এগিয়ে ছেলেরাই।
চলতি বছর মোট পরীক্ষার্থী ছিলেন ৭,৮৯,৬৬৬ জন। তার মধ্যে মেয়েদের সংখ্যা ৪,৩৪,৬০৯ এবং ছেলেদের সংখ্যা ৩,৫৫,০৫৭—অর্থাৎ মেয়েরা প্রায় ৭৯,৫০০ জন বেশি, যা কন্যাশ্রী প্রকল্পের ভূমিকা এবং নারী শিক্ষার প্রতি বাড়তে থাকা আগ্রহকেই স্পষ্ট করে। তবে পাশের হারে দেখা যাচ্ছে ভিন্ন চিত্র—ছেলেদের পাশের হার ৯২.৩৮ শতাংশ, আর মেয়েদের ৮৮.১২ শতাংশ। রাজ্যের সার্বিক পাশের হার ৯০.৭৯ শতাংশ, যা গত বছরের তুলনায় সামান্য কম হলেও গড় মানের নিরিখে যথেষ্ট ইতিবাচক।
সেরা দশে রয়েছেন ৭২ জন ছাত্রছাত্রী। প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ স্থান অধিকার করেছেন যথাক্রমে একজন করে।
প্রথম হয়েছেন বর্ধমানের রূপায়ন পাল—৪৯৭ নম্বর (৯৯.৪%)
দ্বিতীয় হয়েছেন কোচবিহারের তুষার দেবনাথ—৪৯৬ নম্বর
তৃতীয় হয়েছেন আরামবাগের রাজর্ষি অধিকারী—৪৯৫ নম্বর
চতুর্থ হয়েছেন বাঁকুড়ার সৃজিতা ঘোষাল—৪৯৪ নম্বর
জেলার ভিত্তিতে পাশের হারে শীর্ষে পূর্ব মেদিনীপুর, যার পাশের হার ৯৫.৭৪%। এরপর রয়েছে উত্তর ২৪ পরগনা (৯৩.৫৩%) এবং কলকাতা (৯৩.৪৩%)। টপারদের মধ্যে হুগলি জেলা থেকে রয়েছেন সর্বাধিক ১৪ জন, যা জেলার একাডেমিক পরিবেশের উচ্চ মান তুলে ধরে। কলকাতা থেকে প্রথম দশে রয়েছেন চারজন।
বিষয়ভিত্তিক ফলাফলেও উঠে এসেছে গুরুত্বপূর্ণ চিত্র—
বিজ্ঞান বিভাগে পাশের হার ৯৯.৪৬%
বাণিজ্য বিভাগে ৯৭.৫২%
কলা বিভাগে ৮৮.২৫%
এই বছর ৬২টি বিষয়ে ১৫টি ভাষায় পরীক্ষা হয়েছে। ৮২৭টি পরীক্ষাকেন্দ্রে আয়োজন করা হয়েছিল উচ্চ মাধ্যমিক। বিশেষভাবে সক্ষম পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ২৪৭ জন, আর পরীক্ষা হয়েছে ৬,৭৯১টি স্কুলে। এবারই প্রথম মার্কশিটে যুক্ত হয়েছে QR কোড। ৮ মে সকাল ১০টা থেকে ছাত্রছাত্রীরা স্কুল থেকে মার্কশিট সংগ্রহ করতে পারবে।
আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল, এই বছরই ছিল বার্ষিক পদ্ধতিতে শেষ উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা। আগামী বছর থেকে সেমিস্টার ভিত্তিক পদ্ধতি চালু হচ্ছে। তৃতীয় সেমিস্টার শুরু হবে ৮ সেপ্টেম্বর, শেষ হবে ২২ সেপ্টেম্বর। দ্বিতীয় সেমিস্টার হবে ১২ ফেব্রুয়ারি থেকে।
নিরাপত্তা ব্যবস্থাতেও ছিল উল্লেখযোগ্য কড়াকড়ি—এবারই প্রথম ব্যবহার করা হয়েছে মেটাল ডিটেক্টর। মোবাইল ফোন নিয়ে ধরা পড়েন ৮ জন পরীক্ষার্থী, যাদের পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছে। প্রশ্নপত্র সংক্রান্ত কোনও অভিযোগ ওঠেনি, যা পর্ষদের সার্বিক ব্যবস্থাপনাকেই প্রমাণ করে।

