পহেলগামে জঙ্গি হানার পর ভারত যে চুপ করে বসে থাকবে না, তা অজানা ছিল না পাকিস্তানের। কিন্তু কোথায়, কী ভাবে আসবে প্রত্যাঘাত তা ঘুণাক্ষরেও টের পায়নি ইসলামাবাদ। মঙ্গলবার রাতে ২৫ মিনিটের তাণ্ডবে বেসামাল পাকিস্তানের এখন কার্যত মাথায় হাত। কেন?
সূত্রের খবর, ভারত সিন্ধ প্রদেশে হামলা চালাতে পারে বলে মনে করে ভিতরে ভিতরে তৈরি ছিল পাকিস্তান। পাকিস্তানকে ভুল পথে চালিত করতে রাজস্থানে বায়ুসেনার নকল মহড়া চালাচ্ছিল ভারতও। সেই ফাঁদেই পা দিল পাকিস্তান। আর মঙ্গলবার রাতে আঘাত এল অন্যত্র। পাক অধিকৃত কাশ্মীর এবং পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশ চলে এলো ভারতীয় সেনার নিখুঁত নিশানায়। রাত ১টা ৫ মিনিট থেকে রাত দেড়টা পর্যন্ত, ২৫ মিনিট ধরে চলল ‘সিঁদুরে তুফান’। যে ধাক্কায় গুঁড়িয়ে গেল একের পর এক জঙ্গিঘাঁটি। জানা যাচ্ছে, মিসাইল হানার আগ মুহূর্ত পর্যন্ত পাক সেনা আঁচই করতে পারেনি কী ঘটতে চলেছে। যখন বুঝল, তখন আর কিছু করার থাকল না। বস্তুত, ১৯৭১ সালের পর এই প্রথম সেনা হামলার মুখে পড়ল পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশ। সেই কারণেও অপারেশান সিঁদুর অনন্য।
অপারেশান সিঁদুরের সাফল্যের পর বুধবার সকালেই মন্ত্রিসভার বৈঠক ডেকেছিলেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। হাজির প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-সহ সব মন্ত্রীরা। সেখানেই আনুষ্ঠানিক ভাবে অপারেশান সিঁদুরের কথা জানান মোদী। মন্ত্রীদের উদ্দেশ্য করে প্রধানমন্ত্রী বললেন, “এটা গোটা দেশের জন্য গর্বের মুহূর্ত। আমাদের সেনা আধিকারিকরা খুব কম সময়ের মধ্যে নিখুঁত অপারেশন সেরে আবার ফিরে এসেছেন এবং এই অপারেশন সফল!” সূত্রের খবর, প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রীদের উদ্দেশে বলেন, “আগাম প্রস্তুতি এবং নিখুঁত পরিকল্পনায় সেনার এই সফল প্রত্যাঘাত প্রশংসনীয়।” প্রধানমন্ত্রী বলেন, “গোটা দেশ আমাদের দিকে তাকিয়ে ছিল। আমরা আমাদের সেনার জন্য গর্বিত।”
সব দিক দিয়ে তৈরি ভারতও। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলির মুখ্যমন্ত্রী, মুখ্যসচিব এবং স্বরাষ্ট্রসচিবদের নিয়ে বৈঠক করছেন। বাংলা, সিকিম-সহ ১০টি রাজ্য ওই বৈঠকে অংশ নেয়। বৃহস্পতিবার সংসদ ভবনে সর্বদল বৈঠকও ডেকেছে কেন্দ্র। অপারেশন সিঁদুর নিয়ে ওই বৈঠকে বিরোধীদের বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হবে। ঘটনার পর থেকেই দেশের বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি সরকারের পাশে দাঁড়িয়েছিল। দাবি করেছিল, পাকিস্তানকে উপযুক্ত জবাব দেওয়ার। মঙ্গলবার রাতে সেই জবাব মুখের উপর পেল পাকিস্তান। আবার কোথায় ভারত কী করে বসে তা নিয়ে এখন থরহরিকম্প ইসলামাবাদের।
অপারেশান সিঁদুরের সাফল্যে দেশের শাসক দলের পাশাপাশি উচ্ছ্বসিত বিরোধীরাও। জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা থেকে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়- সকলেই উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। সেনাবাহিনীকে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।
Jazzbaat24Bangla • Beta
Leave a comment
Leave a comment
