স্নিগ্ধা চৌধুরী
ভারত-পাক উত্তেজনার আবহে ফের উত্তপ্ত কাশ্মীর সীমান্ত। এবার ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পাল্টা চাল দিতে গিয়ে বড়সড় ধাক্কা খেল পাকিস্তান। সাম্বা জেলায় অনুপ্রবেশের চেষ্টাকালে বিএসএফের (BSF) গুলিতে খতম হল ৭ জন জইশ-ই-মহম্মদ জঙ্গি। শুক্রবার ভোররাতে সংঘর্ষবিরতি লঙ্ঘন করে পাকিস্তান গোলাবর্ষণ শুরু করে। সেই আড়ালে অনুপ্রবেশের চেষ্টা চালায় জইশের একটি দল। খবর পেয়েই তৎপর বিএসএফ।
গোপন সূত্র মারফত বৃহস্পতিবার রাতেই জানা যায়, পাকিস্তান সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে ঢোকার পরিকল্পনা করছে একদল জঙ্গি। রাত ১১টা নাগাদ সাম্বা সেক্টরে কিছু সন্দেহজনক গতিবিধি লক্ষ্য করে বিএসএফ। সঙ্গে সঙ্গেই এলাকাটি ঘিরে ফেলে জওয়ানরা। তারপর শুরু হয় গুলির লড়াই। দীর্ঘক্ষণ গোলাগুলির পর ৭ জন জইশ জঙ্গিকে নিকেশ করে সীমান্তরক্ষী বাহিনী।
বিএসএফ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধ্বংস করা হয়েছে পাকিস্তানের ধনধার পোস্টও। ওই পোস্ট থেকেই অনুপ্রবেশে সহায়তা পাচ্ছিল জঙ্গিরা। বিএসএফের এক্স পোস্টে একটি ভিডিও প্রকাশ করে জানানো হয়েছে, অনুপ্রবেশ রুখতে এই অপারেশন চালানো হয় এবং তাতে পাক বাহিনীর পক্ষেও ক্ষয়ক্ষতির খবর রয়েছে।
জঙ্গিদের এই অনুপ্রবেশ পরিকল্পনা ছিল মাসুদ আজহারের ভাই রউফের মৃত্যুর বদলা নেওয়ার অংশ বলে ধারণা গোয়েন্দাদের। অপারেশন সিঁদুরে রউফের মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর থেকেই জইশ ফের সক্রিয় হয়ে ওঠে। এরই মধ্যে চলেছে একের পর এক সংঘর্ষবিরতি লঙ্ঘন।
সীমান্তের এই পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত করে তুলছে ভারত-পাক সম্পর্ককে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক সূত্রে খবর, সীমান্তে অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে এবং সেনার সঙ্গে মিলে লাগাতার নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ভারতীয় বাহিনীর তৎপরতায় বড়সড় অনুপ্রবেশ ঠেকিয়ে দেওয়া গেলেও গোয়েন্দারা মনে করছেন, আগামী দিনে এই ধরনের হামলার চেষ্টা আরও বাড়তে পারে। ফলে, সীমান্ত এলাকায় কড়া নজরদারি এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়ার ওপরেই জোর দেওয়া হচ্ছে।
