ভারতের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার শক্তি নিয়ে আবারও মুখ খুলল দেশের সেনাবাহিনী। রবিবার সন্ধ্যার পর সোমবার দুপুরে অনুষ্ঠিত সাংবাদিক সম্মেলনে ভারতীয় সেনার তিন শাখার শীর্ষ আধিকারিকরা স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিলেন, পাকিস্তানের একের পর এক হামলার চেষ্টাকে ভারত নিজের তৈরি অস্ত্র ও প্রযুক্তিতেই রুখে দিয়েছে। বিদেশি সাহায্য নয়, বরং ভারতের নিজস্ব এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমই এবার প্রমাণ করল তার কার্যকারিতা।
এই সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ডিজিএমও লেফটেন্যান্ট জেনারেল রাজীব ঘাই, এয়ার অপারেশনের ডিরেক্টর জেনারেল এয়ার মার্শাল একে ভারতী এবং নাভাল অপারেশনের ডিরেক্টর জেনারেল ভাইস অ্যাডমিরাল এএন প্রমোদ। তাঁরা জানান, পাকিস্তান ও পাক অধিকৃত কাশ্মীরের নির্দিষ্ট জঙ্গি ঘাঁটি লক্ষ্য করেই ‘অপারেশন সিঁদুর’ চালানো হয়েছিল। ভারতের এই সামরিক অভিযান ছিল অত্যন্ত সফল এবং নিয়ন্ত্রিত।
এয়ার মার্শাল একে ভারতী জানান, পাকিস্তান যখন একের পর এক ড্রোন, ইউএভি, ইউক্যাভ ও ক্ষেপণাস্ত্র পাঠাচ্ছিল ভারতের আকাশসীমায়, তখন ভারতীয় বায়ুসেনা অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে তা প্রতিহত করেছে। দেশের নিজস্ব ‘সফ্ট ও হার্ড কিল কাউন্টার ইউএএস সিস্টেম’ ব্যবহার করেই সমস্ত হুমকির মোকাবিলা করা সম্ভব হয়েছে। একে ভারতী বলেন, “পাকিস্তান ঝাঁকে ঝাঁকে ড্রোন পাঠালেও, আমাদের প্রযুক্তি ও ট্রেনিং ছিল যথেষ্ট উন্নত। আমাদের বায়ুসেনার দক্ষ পাইলটরা এবং আধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সেই সমস্ত আক্রমণ একেবারে ব্যর্থ করে দিয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “যেমন ক্রিকেটে দুর্দান্ত ফিল্ডিং ও বোলিংয়ের মাধ্যমে বিপক্ষ দলের রান আটকে দেওয়া যায়, ঠিক তেমনই আমাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শত্রুর সমস্ত আক্রমণ আটকে দিয়েছে।”
এই প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় বাজেটে প্রতিরক্ষা খাতে বাড়তি বরাদ্দের বিষয়টিও তুলে ধরেন এয়ার মার্শাল। তিনি বলেন, “এই বরাদ্দ না থাকলে এত অত্যাধুনিক অস্ত্র ও প্রযুক্তি সংগ্রহ এবং ব্যবহারের সুযোগ থাকত না। দেশের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে সরকারের এই পদক্ষেপ অত্যন্ত সময়োপযোগী।”
সেনা সূত্রে জানা গিয়েছে, স্থল, নৌ ও বিমান, তিন বাহিনীর যৌথ সমন্বয়ে আগামী দিনে যেকোনও সম্ভাব্য অভিযানের জন্য ভারত সম্পূর্ণ প্রস্তুত। সেনা কর্তারা জানান, সীমান্তে বাড়তি সতর্কতা ও নজরদারি চালানো হচ্ছে। সেনার কথায়, “সাহস, প্রযুক্তি এবং দেশের ওপর ভরসা, এই তিন শক্তিতে ভর করেই ভারত প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে নতুন যুগে প্রবেশ করছে।”
এই সাংবাদিক সম্মেলন শুধু পাকিস্তানের প্রতি কড়া বার্তা নয়, বরং দেশের নাগরিকদের জন্যও এক আত্মবিশ্বাসের বার্তা, ভারত আজ আত্মনির্ভর, শুধু কূটনীতি নয়, যুদ্ধক্ষেত্রেও।
