প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর প্রশংসা করতে গিয়ে মুখ ফসকে বিতর্কিত মন্তব্য করে বেকায়দায় পড়লেন মধ্যপ্রদেশের আদিবাসী কল্যাণ মন্ত্রী কুমার বিজয় শাহ। অপারেশন সিঁদুর প্রসঙ্গে বক্তৃতার সময় কর্নেল সোফিয়া কুরেশিকে ঘিরে তাঁর মন্তব্য ঘিরে দেশজুড়ে তৈরি হয়েছে বিতর্কের ঝড়।
মনপুর শহরে আয়োজিত একটি সরকারি অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকে মন্ত্রী বলেন, “যারা কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলা চালিয়েছিল, তাঁদের জবাব দিতে প্রধানমন্ত্রী মোদী ‘সেই একই সম্প্রদায়ের’ এক বোনকে পাঠিয়েছিলেন।” এরপর তিনি বলেন, “তোমরা যদি আমাদের মেয়েদের বিধবা করো, তাহলে তোমাদেরই এক বোন তোমাদের পোশাক খুলে নিতে আসবে।”
অনেকেই ধরে নিয়েছেন, মন্ত্রী এই কথাগুলোর মাধ্যমে ভারতীয় সেনার সাহসিনী কর্নেল সোফিয়া কুরেশিকে ইঙ্গিত করেছেন, যিনি অপারেশন সিঁদুরের অন্যতম মুখ এবং যাঁর বীরত্বে গর্বিত গোটা ভারত।
উল্লেখযোগ্য, পহেলগাঁও হামলায় পর্যটকদের উপর নৃশংসতা চালানোর পাশাপাশি, কিছু পুরুষ পর্যটকের গোপনাঙ্গ পর্যন্ত পরীক্ষা করার অভিযোগ উঠেছিল জঙ্গিদের বিরুদ্ধে। সেই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতেই মোদী সরকার চালায় প্রতিশোধাত্মক অভিযান, অপারেশন সিঁদুর। আর তাতেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন কর্নেল কুরেশি।
তবে মন্ত্রীর এই মন্তব্যকে ঘিরে জনমানসে ব্যাপক ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই প্রশ্ন তোলেন, সেনার একজন উচ্চপদস্থ অফিসারকে ধর্মীয় পরিচয়ে টেনে এনে ‘প্রতিশোধের প্রতীক’ হিসেবে উপস্থাপন করাটা কতটা যুক্তিযুক্ত? একাংশ বলছে, এতে কর্নেল কুরেশির সম্মান ক্ষুণ্ণ হয়েছে।
বেগতিক বুঝে পরে ব্যাখ্যা দেন কুমার বিজয় শাহ। বলেন, “আমার বক্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা করা হচ্ছে। আমি কর্নেল কুরেশিকে ‘আমাদের বোন’ বলেই উল্লেখ করেছি। তিনি ভারতীয় সেনাবাহিনীর গর্ব, তাঁর বীরত্বে সমগ্র দেশ মাথা উঁচু করে রয়েছে।”
কিন্তু ততক্ষণে বিতর্কের আগুন ছড়িয়ে পড়েছে রাজনীতির অন্দরমহল থেকে জনতার মনে। এখন দেখার, এই মন্তব্যের জেরে দলীয় স্তরে কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয় কিনা। তবে এতটুকু নিশ্চিত, কর্নেল কুরেশিকে ঘিরে এমন মন্তব্যের পুনরাবৃত্তি হলে, তা যে আর মুখ বাঁচিয়ে সামাল দেওয়া যাবে না, তা স্পষ্ট রাজনৈতিক মহলে।
