নয় দিনের বিরতির পর ১৭ মে থেকে ফের শুরু হতে চলেছে আইপিএল। কিন্তু এই নতুন সূচির মধ্যে বড় প্রশ্ন উঠে এসেছে—সব বিদেশি খেলোয়াড়দের পাওয়া যাবে তো? অস্ট্রেলিয়ার পরে এবার দক্ষিণ আফ্রিকাও নিজেদের ক্রিকেটারদের ছাড়পত্র নিয়ে কড়া অবস্থান নিয়েছে, যা টুর্নামেন্টের শেষ পর্বে বেশ কিছু দলের জন্য চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
দক্ষিণ আফ্রিকার কোচ শুকরি কনরাড স্পষ্ট জানিয়েছেন, তাঁদের ক্রিকেটারদের ২৬ মে’র মধ্যে আইপিএল ছেড়ে দেশে ফিরতেই হবে। তাঁর কথায়, বিসিসিআই ও আইপিএলের সঙ্গে যেই সমঝোতা হয়েছিল, তার ভিত্তিতেই ২৫ মে পর্যন্ত এনওসি দেওয়া হয়েছিল খেলোয়াড়দের। পরে আইপিএলের ফাইনাল পিছিয়ে ৩ জুন করা হলেও, দক্ষিণ আফ্রিকার অবস্থানে কোনও বদল আসেনি। কারণ, ১১ জুন থেকে শুরু হচ্ছে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ ফাইনাল, যেখানে প্রতিপক্ষ অস্ট্রেলিয়া। ফলে প্রস্তুতির জন্য অন্তত কিছুটা সময় পাওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছে প্রোটিয়া টিম ম্যানেজমেন্ট।
ইতিমধ্যে দক্ষিণ আফ্রিকা তাঁদের চূড়ান্ত স্কোয়াডও ঘোষণা করেছে। সেখানে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের করবিন বশ ও রায়ান রিকেলটন, গুজরাটের কাগিসো রাবাডা, দিল্লির ত্রিস্তান স্টাবস, লখনউয়ের আইডেন মার্করাম, পাঞ্জাবের মার্কো জানসেন ও আরসিবির লুঙ্গি এনগিডির মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটাররা রয়েছেন। এই ক্রিকেটারদের অনেকেই এমন দলে আছেন, যারা প্লে-অফে যাওয়ার জোরালো দাবিদার। সেক্ষেত্রে তাঁদের আগেভাগে দেশে ফেরত পাঠাতে হলে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলির বড় ধাক্কা খাওয়ার আশঙ্কা থাকছে।
এই অবস্থায় নজর এখন বিসিসিআই-এর দিকেই। তারা কি দক্ষিণ আফ্রিকার অনুরোধে সাড়া দেবে, নাকি শেষ পর্যন্ত কিছু খেলোয়াড়কে ধরে রাখার চেষ্টা করবে—সেই সিদ্ধান্তের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে ক্রিকেটবিশ্ব। অন্যদিকে, ক্যারিবিয়ান তারকারা যেমন আন্দ্রে রাসেল ও সুনীল নারিন ইতিমধ্যে নাইট রাইডার্স শিবিরে যোগ দিয়েছেন, যা কিছু দলের স্বস্তির কারণ হলেও গুজরাট ও পাঞ্জাবের মতো দলগুলি বিদেশিদের নিয়ে সমস্যায় পড়েছে।
এদিকে, কোহলির টেস্ট অবসর ঘোষণাকে ঘিরে আবেগে ভেসেছে আরসিবি সমর্থকরা। তাঁরা চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে সাদা পোশাক পরে হাজির হয়ে বিরাটকে সম্মান জানানোর ডাক দিয়েছেন।
সব মিলিয়ে, আইপিএলের শেষ লগ্নে পৌঁছে বিদেশি খেলোয়াড়দের প্রাপ্যতা এবং জাতীয় দায়িত্বের ডাক—এই দুইয়ের মধ্যে সমন্বয়ই হয়ে উঠেছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
