ব্রিটেন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সদ্য স্বাক্ষরিত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করল চিন। বেজিং-এর দাবি এই চুক্তির মাধ্যমে ব্রিটেন এমন এক অবস্থান নিল যাতে ব্রিটিশ কোম্পানিগুলোর ওপর চিনা পণ্য বর্জনের চাপ সৃষ্টি করতে পারে।চিনের বিদেশ মন্ত্রক এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, “রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সহযোগিতা অন্য কোনও তৃতীয় পক্ষের স্বার্থের বিরুদ্ধে বা তাদের ক্ষতিসাধনের উদ্দেশ্যে হওয়া উচিত নয়।” আন্তর্জাতিক চুক্তি যেন তৃতীয় দেশের বিরুদ্ধে না হয়, একে চিন একটি ‘মৌলিক নীতি’ হিসেবে উল্লেখ করেছে।
গত সপ্তাহে স্বাক্ষরিত যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তি অনুযায়ী, কিছু ক্ষেত্রে মার্কিন গাড়ি ও ইস্পাত শুল্ক থেকে সীমিত রেহাই পাবে ব্রিটেন। তবে এর বিপরীতে কঠোর শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে সরবরাহ চেন এবং মালিকানা সংক্রান্ত কাঠামোর ওপর নজরদারি—যা মূলত চিনের উপস্থিতিকে লক্ষ করে করা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
চুক্তি অনুযায়ী, প্রতিবছর সর্বোচ্চ এক লক্ষ ব্রিটিশ গাড়ির ওপর আমেরিকা ২৭.৫% শুল্ক কমিয়ে ১০% করবে। তাছাড়া, যুক্তরাজ্যের ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়ামের ওপর চাপানো শুল্ক প্রত্যাহার করা হবে, তবে ব্রিটিশ কোম্পানিগুলোকে মার্কিন নিরাপত্তা শর্ত পূরণ করতে হবে—বিশেষ করে মালিকানা কাঠামো ও সরবরাহ চেইনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। এই শর্তগুলো নিয়ে বেইজিংয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। চিনের ম্যাক্রোইকোনমিক গবেষণা অ্যাকাডেমির গবেষক ঝ্যাং ইয়ানশেং এই চুক্তির কিছু ধারা সম্পর্কে বলেন, “এগুলো বিষাক্ত ট্যাবলেট, যা শুল্কের থেকেও ক্ষতিকর।” তাঁর মতে, ব্রিটেনের এই পদক্ষেপে চিনের প্রতি সুবিচার করা হল না।
তবে ব্রিটিশ সরকার জানিয়েছে, এই চুক্তির লক্ষ্য হলো চাকরি সুরক্ষা ও ব্রিটিশ ব্যবসার স্বার্থ রক্ষা করা। ব্রিটিশ সরকারের এক মুখপাত্র বলেন, “চিনের সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ ব্রিটেনের জন্য এখনো গুরুত্বপূর্ণ।”
তবে সম্প্রতি ব্রিটেনের সঙ্গে আমেরিকার বাণিজ্য চুক্তির নির্যাসে প্রশ্ন উঠেছে বিশেষজ্ঞ মহলেও।সেই ব্যাখ্যা বলছে যে চুক্তি থেকে আমেরিকা যা আদায় করে নিচ্ছে কার্যত তার ভগ্নাংশ সুবিধাও পাচ্ছে না ব্রিটেন। তাঁদের দাবি এমন একটি চুক্তি হওয়া দরকার যাতে উভয় পক্ষ লাভবান হয়। ইতিমধ্যেই দুই পক্ষ এক দফা বৈঠক করেছে।এই মাসে ওয়াশিংটনে পরবর্তী পর্যায়ের বৈঠক হওয়ার কথা। তথ্য বলছে ব্রিটেনের সঙ্গে আলোচনায় আমেরিকা নিজেদের প্রায় ২৫০০ পণ্যের শুল্ক কমাতে পেরেছে। ব্রিটেনের ঝুলিতে সেখানে তা প্রায় ১০০।
Leave a comment
Leave a comment
