অবশেষে আইপিএল ২০২৫-এর বাকি অংশ শুরু হতে চলেছে। যদিও টুর্নামেন্টটি মাঝপথে সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছিল, নতুন সূচি অনুযায়ী ৩ জুন ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে। এই দীর্ঘ বিরতির ফলে এবং জুনের ১১ তারিখ থেকে শুরু হওয়া বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ ফাইনালের জন্য অধিকাংশ বিদেশি খেলোয়াড়কে আর পাওয়া যাচ্ছে না। কেউ কেউ নিজের দেশে ফিরে গেছেন, কেউ বা দেশের জার্সিতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলবেন বলে প্লে-অফের সময় অনুপস্থিত থাকবেন। এমন পরিস্থিতিতে সমস্যায় পড়ে একাধিক ফ্র্যাঞ্চাইজি।
এই জটিল পরিস্থিতি থেকে মুক্তি দিতে বোর্ড এনেছে এক নতুন নিয়ম— “অস্থায়ী পরিবর্ত”। অর্থাৎ, যেসব বিদেশি খেলোয়াড় আইপিএলের শেষ পর্বে অনুপস্থিত থাকবেন, তাঁদের বদলি হিসেবে নতুন খেলোয়াড় সই করানো যাবে। তবে এই নিয়মের মধ্যে একটা বড় শর্তও রয়েছে—এই বদলি খেলোয়াড়দের কেবলমাত্র এই আইপিএলের বাকি ম্যাচগুলির জন্যই ব্যবহার করা যাবে। আগামী মরশুমে তাঁদের রিটেন করা যাবে না। ফলে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলিকে কৌশল করে সাময়িক বিকল্প বেছে নিতে হচ্ছে।
এই নিয়মেই চমক দিল দিল্লি ক্যাপিটালস। দলের ওপেনার জ্যাক ফ্রেজার ম্যাকগুরুক আইপিএলের বাকি অংশ থেকে নিজেকে সরিয়ে নেওয়ায়, তাঁর পরিবর্ত হিসেবে ৬ কোটি টাকায় বাংলাদেশের বাঁ হাতি পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে দলে নিয়েছে দিল্লি। অনেকে প্রশ্ন তুলতে পারেন, একজন ওপেনারের পরিবর্তে পেসার কেন? কিন্তু এর পেছনে যুক্তি রয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার বাঁ হাতি পেসার মিচেল স্টার্কও দল ছাড়ছেন প্লে-অফের আগে। তিনি খেলবেন বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে। তাই দিল্লি আগে থেকেই তাঁর বিকল্প খুঁজে রাখতে চায়, আর সেই ভাবনাতেই মুস্তাফিজুরকে দলে নেওয়া হয়েছে।
এই অস্থায়ী পরিবর্ত নীতির আওতায় অন্যান্য দলও নতুন খেলোয়াড় সই করাতে শুরু করেছে। তবে বোর্ড জানিয়েছে, যারা টুর্নামেন্ট স্থগিত হওয়ার ৪৮ ঘণ্টা আগেই দলে যুক্ত হয়েছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে এই নিয়ম কার্যকর হবে না। অর্থাৎ, দিল্লির সিদ্দিকুল্লা অটল, বেঙ্গালুরুর মায়াঙ্ক আগরওয়াল, রাজস্থানের প্রিটোরিয়াস ও বার্গার—তাঁদের আগামী আইপিএলেও রাখা যাবে।
তবে মুস্তাফিজুর রহমানের ক্ষেত্রে সেটা সম্ভব নয়। এই আইপিএলের বাকি অংশের জন্যই তাঁর চুক্তি, এরপর নতুন করে নিলামে যেতে হবে তাঁকে। বোর্ডের এই নতুন নিয়ম পরিস্থিতির চাপে চালু হলেও, এটা বেশ কৌশলগত সিদ্ধান্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে। সময় বলবে, এই নিয়ম কতটা কার্যকর ও লাভজনক হয় দলগুলোর জন্য।
