তুরস্কের সঙ্গে কোটি কোটি ডলারের বাণিজ্য চুক্তি পুনর্মূল্যায়ন করছে ভারত সরকার। ‘অপারেশন সিন্দুর’-এর পর পাকিস্তানের প্রতি তুরস্কের ভালোবাসার কথা বিবেচনা করে এই পদক্ষেপ। সরকার নিশ্চিত করতে চায়, এই চুক্তিগুলি ভারতের কৌশলগত স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। ভারত ও তুরস্কের মধ্যে অটোমোবাইল, তথ্যপ্রযুক্তি, মেট্রোরেল এবং টানেলের মতো খাতে বাণিজ্য রয়েছে। গুজরাট, মহারাষ্ট্র, উত্তর প্রদেশ, জম্মু ও কাশ্মীর এবং দিল্লির মতো রাজ্যে কাজ করছে তুর্কি কোম্পানিগুলি। অর্থবর্ষ ২৪-এ দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ছিল ১০.৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।
ইন্ডিয়া ব্র্যান্ড ইক্যুইটি ফাউন্ডেশন (IBEF) এর ফেব্রুয়ারী ২০২৫ সালের প্রতিবেদন অনুসারে, ভারতে বিদেশী বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ৪৫তম স্থানে রয়েছে তুরস্ক। ২০০০ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত, ভারতে ২৪০.১৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করেছে তুরস্ক। IBEF হল বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একটি ট্রাস্ট। দেশে তুরস্কের বিনিয়োগ নির্মাণ, উৎপাদন, বিমান চলাচল এবং মেট্রোরেলের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে। শিক্ষা এবং গণমাধ্যমের মতো ক্ষেত্রেও সেদেশের অবদান রয়েছে। গত দশকে দুই দেশের মধ্যে অনেক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে পপি বীজ বাণিজ্য থেকে শুরু করে টেলিযোগাযোগ, সংস্কৃতি, শিক্ষা, মিডিয়া এবং কূটনীতিতে সহযোগিতা।
এক প্রতিবেদন অনুসারে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেছেন “তুর্কি কোম্পানিগুলির সঙ্গে সম্পর্কিত সমস্ত প্রকল্প তদন্ত করা হচ্ছে।” সরকার সকল সম্পর্ক পুনর্মূল্যায়ন করছে, যার মধ্যে যেগুলো শেষ হয়ে গেছে সেগুলোও রয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি খাতের প্রকল্প সম্পর্কিত সমস্ত তথ্য এবং নথি সংগ্রহ করছে সরকার। ২০২০ সালে, জম্মু ও কাশ্মীরের অটল টানেলের ইলেক্ট্রোমেকানিক্যাল অংশের কাজ পায় একটি তুর্কি কোম্পানি। ২০২৪ সালে, আরভিএনএল মেট্রো রেল প্রকল্পের জন্য আরেকটি তুর্কি কোম্পানির সঙ্গে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করে।
উল্লেখ্য, এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ভারতের বাণিজ্য, উৎপাদন এবং প্রযুক্তিগত অংশীদার তুরস্ক। কিন্তু অপারেশন সিঁদুরের পর পাকিস্তানের সঙ্গে তীব্র উত্তেজনা এবং সন্ত্রাস-সমর্থক দেশের প্রতি তাদের ঝোঁক ভারতকে তার ভূ-রাজনৈতিক কৌশল পরিবর্তন করতে বাধ্য করেছে। আন্তর্জাতিক ফোরামে কাশ্মীর নিয়ে তুরস্কের বারবার মন্তব্য এবং পাকিস্তানের সঙ্গে তুরস্কের ক্রমবর্ধমান ঘনিষ্ঠতা ভালো চোখে দেখছে না নয়াদিল্লি। ভারত সরকার এখন ধীরে ধীরে তুরস্কের সঙ্গে সব বাণিজ্যিক সম্পর্ক কমিয়ে আনার চেষ্টায়।
