Ismail Royer: প্রাক্তন জঙ্গিকে প্রশাসনে ঠাঁই দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। জঙ্গিমূলক কাজকর্মের অপরাধে ১৩ বছর জেল খেটেছেন ইসমাইল রয়্যার। আর তাকেই কিনা ধর্মীয় স্বাধীনতা বিষয়ক কমিশনের উপদেষ্টা বোর্ডের সদস্য হিসেবে নিয়োগ করলেন ট্রাম্প। শনিবার ইসমাইলের নাম প্রকাশ করে হোয়াইট হাউস।
২০০৩ সালের ঘটনা। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধে উসকানি দেওয়া ও আলকায়দা এবং লস্কর ই তৈবার মতো জঙ্গিগোষ্ঠীগুলিকে বিভিন্ন সরঞ্জাম দিয়ে সাহায্য করার অভিযোগ ছিল রয়্যারের বিরুদ্ধে। ২০০৪ সালে দোষী প্রমাণিত হন তিনি। ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয় ইসমাইলকে। ১৩ বছর হাজতবাসের পর ২০১৭ সালে জেলমুক্তি ঘটে ইসমাইলের।
এদিন হোয়াইট হাউসের তরফে বিবৃতিতে বলা হয়, ধর্মীয় বিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা ও প্রাচীন ইসলামিক পণ্ডিতদের সঙ্গে চর্চা করতেন ইসমাইল। স্রেফ তাই নয়, অলাভজনক একাধিক ইসলামিক সংগঠনের সঙ্গে দশকেরও বেশি সময় ধরে কাজ করেছেন তিনি। ১৯৯২ সালে ইসলামে ধর্মান্তরিত হন রয়্যার। শান্তির বার্তা ছড়িয়ে দিতে নানান কাজে লিপ্ত করেন নিজেকে।
রয়্যারের লেখা একাধিক জায়গায় প্রকাশিত হয় বলেও দাবি হোয়াইট হাউসের। ২০২৩ সালে মিডল ইস্ট ফোরামে এক কথোপকথনে নিজের জেহাদিতে রূপান্তর হওয়ার কথা জানিয়েছিলেন ইসমাইল রয়্যার। সেখানে তিনি বলেন, “লস্কর ই তৈবার সদস্যদের আমি পছন্দ করতাম। যদিও লাদেনের বিরোধী ছিলাম আমি। আলকায়দা আমাদের আদর্শের বিরোধী ছিল বলে মনে করতাম। আর তাই আমাকে লস্করে যোগ দিতে বলা হয়েছিল। বলা হয়েছিল, লস্কর কোনও উগ্রপন্থী সংগঠন নয়।”
এখানেই শেষ নয়। আরও সব বিস্ফোরক কথা জানিয়েছিলেন রয়্যার। তিনি বলেন, “মসজিদে গিয়ে মুসলিমদের লস্করে যোগ দেওয়ার ব্যাপারে উৎসাহ দিতাম আমি। কাশ্মীরে লস্করের সঙ্গে তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার ব্যবস্থা করে দিতাম। গোটাটাই ছিল পর্যটনের মতো। বন্দুক ধরিয়ে দিয়ে বলা হত পাহাড়ে ঘুরে গুলি চালিয়ে আবার ফিরে আসতে।”
আমেরিকার সেন্ট লুইসের শহরতলিতে বেড়ে ওঠা ইসমাইলের। বাবা-মা ছিলেন পেশায় ফটোগ্রাফার ও শিক্ষক। কম বয়সেই উগ্রপন্থী কার্যকলাপের প্রতি আকৃষ্ট হয় সে। ২০০০ সালে পাকিস্তানে লস্কর ই তৈবার সঙ্গে যোগাযোগ হয় তাঁর। ২০০১ সালে ৯/১১ এর হামলার পর ভার্জিনিয়ায় জিহাদ নেটওয়ার্কের অন্যতম মাথা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছিলেন ইসমাইল। তাঁকেই এবার প্রশাসনে জায়গা দিলেন ট্রাম্প।
