সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়
তিনি মহারাষ্ট্রের ভূমিপুত্র। আবার তিনিই দেশের প্রধান বিচারপতি। অথচ দেশের প্রধান বিচারপতি হওয়ার পর মুম্বইতে তাঁর প্রথম অনুষ্ঠানে গরহাজির রাজ্যের মুখ্য সচিব, ডিজি এমনকি মুম্বই পুলিশ কমিশনারও। আর এটাই বেজায় ক্ষুব্ধ সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি বি আর গাভাই। মুম্বইয়ের ওই অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকেই প্রোটোকলের ফাঁকফোকর নিয়ে প্রশ্ন তুললেন দেশের প্রধান বিচারপতি। তাঁর মন্তব্য ” গণতন্ত্রের তিনটি স্তম্ভ- বিচার বিভাগ আইনসভা এবং আমলাতন্ত্র সমান গুরুত্বপূর্ণ। তিনটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানকেই অন্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান কে সম্মান জানানো অবশ্যই কর্তব্য। যখন মহারাষ্ট্রের একজন ব্যক্তি প্রথম দেশের প্রধান বিচারপতি হন এবং তিনি মহারাষ্ট্রে প্রথমবারের জন্য আসেন তখন তাঁর অনুষ্ঠানে মুখ্য সচিব, ডিজি অথবা পুলিশ কমিশনার হাজির থাকা উপযুক্ত না মনে করেন তাহলে তাদের সম্বন্ধে অবশ্যই ভেবে দেখা উচিত। প্রটোকল আর কিছুই নয় একটি সংবিধানিক প্রতিষ্ঠান অন্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানকে কতটা সম্মান দেয়, সেটা তারই প্রশ্ন। যখন কোন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের প্রধান কোন রাজ্যে প্রথমবার যান তখন তার সঙ্গে এ ধরনের ব্যবহার অবশ্যই পুনর্বিবেচনা করা উচিত।” বিচার বিভাগের ক্ষমতার অতিরিক্ত ব্যবহার নিয়ে যখন দেশে বিতর্ক দানা বেঁধেছে, ঠিক সেই সময় দেশের প্রধান বিচারপতির এই ধরনের বক্তব্য অবশ্যই আলাদা মাত্রা যোগ করে। পাশাপাশি দেশের প্রধান বিচারপতির অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট রাজ্যের শীর্ষস্থানীয় প্রশাসনিক কর্তাদের গরহাজিরা অবশ্যই দেশের সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক কাঠামো অশুভ ইঙ্গিত হলেও মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। দেশের প্রধান বিচারপতি বি আর গাভাই নিজেই জানিয়ে দিয়েছেন ” প্রটোকল এবং তার বাধ্যবাধকতার বিষয় ছোটখাটো জিনিস মনে করা হতে পারে কিন্তু জনসাধারণকে এ সম্বন্ধে সচেতন করা খুবই প্রয়োজন।”
