সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়
গণতান্ত্রিক দেশে আন্দোলন করার অধিকার সকলের আছে। কিন্তু দেখতে হবে সেই আন্দোলন যাতে হিংস্র বা জঙ্গি আন্দোলনে পরিণত না হয়। এসএসসি চাকরি বাতিল ইস্যুতে রাজ্য সরকার তার অবস্থান স্পষ্ট করেছে। তা সত্ত্বেও যারা আন্দোলন করছেন করুন কিন্তু সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করে জঙ্গিপনা দেখিয়ে যে আন্দোলন চলছে তা সমর্থনযোগ্য নয়। আজ কলকাতা বিমানবন্দরে এমনটাই জানালেন ডায়মন্ড হারবার এর সংসদ তথা রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। নিজের বক্তব্যে আন্দোলনের প্রকৃতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অভিষেক। আন্দোলন বা গণআন্দোলন যে কোন গণতান্ত্রিক দেশে প্রতিটি মানুষের অধিকার এ কথাকে মান্যতা দিয়েই অভিষেক বলেন ” গান্ধীজী অহিংস আন্দোলনের বার্তা দিয়েছিলেন। যে আন্দোলন দেশের স্বাধীনতা এনে দেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। সে কথা মাথায় রেখে আন্দোলন বা গণআন্দোলন সংগঠিত করতে হলে হিংসার পথ নয় হিংসাশ্রয়ী আন্দোলন ছেড়ে অহিংস পথেই আন্দোলন বা গণ আন্দোলন সংগঠিত করা হোক। আমি আন্দোলনের পক্ষে তবে সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর করে কর্তব্যরত পুলিশকে মারধর করে জঙ্গি মনোভাব দেখিয়ে যে হিংসাশ্রয়ী আন্দোলন করা হচ্ছে তা সমর্থনযোগ্য নয়।” নিজের বক্তব্যের সমর্থনে দিল্লিতে ১০০ দিনের কাজের বকেয়া টাকা আদায়ের জন্য যে আন্দোলন সংগঠিত হয়েছিল অভিষেকের নেতৃত্বেই তার কথাও তুলে ধরেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। দিল্লিতে ১০০ দিনের কাজের বকেয়ার দাবিতে আন্দোলন করতে গিয়ে আন্দোলনকারীদের উপর পুলিশের লাঠিচার্জ মারধর করা সত্ত্বেও পাল্টা হিংসার পথে আন্দোলনকারীরা সেকথা স্মরণ করিয়ে দেন অভিষেক। বিভাগীয় কেন্দ্রীয় মন্ত্রী দপ্তরের সামনে ধরনা অবস্থান করার পাশাপাশি কলকাতায় ফ্রি রাজভবনের সামনে তাঁরা ধরনা অবস্থান করেছিলে। কিন্তু কখনোই হিংসার পথ অবলম্বন করেননি বলে জানান অভিষেক। চাকরি বাতিল মামলায় সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশকে নুর বিবেচনার আবেদন জানিয়ে রাজ্য সরকার ইতিমধ্যেই রিভিউ পিটিশন দাখিল করেছে। এসএসসি চাকরি বাতিল মামলা নিয়ে রাজ্য সরকার তার অবস্থানও স্পষ্ট করেছে। আন্দোলনকারীদের প্রতি অভিষেকের বার্তা ” বিচার ব্যবস্থার ওপর ভরসা রাখুন। আন্দোলনের নামে জঙ্গিপনা করে সুবিচার পাওয়া যায় না।”
