বিদেশনীতির প্রশ্নে কেন্দ্রের পাশে। কিন্তু দলের সঙ্গে আলোচনা না করে একতরফা প্রতিনিধি বাছায় সায় নেই। ইউসুফ পাঠান বিতর্কে দলের অবস্থান স্পষ্ট করলেন তৃণমূলের সর্বময় নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ঠিক একই কথার প্রতিধ্বনি দলে ‘নম্বর টু’ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়েরও।
সোমবার সকালে দিল্লি যাওয়ার পথে কলকাতা বিমানবন্দরে অভিষেক বলেন, “তৃণমূল থেকে কে যাবেন সেটা বিজেপি ঠিক করে দিতে পারে না। এটা দলের অভ্যন্তরীণ বিষয়। এক জন চাইলে আমরা পাঁচ জনের নাম দিতে পারি, কিন্তু তা দলের সিদ্ধান্তেই হবে।” অভিষেকের কথা থেকেই পরিষ্কার হয়ে যায়, ইউসুফকে ছাড়ছে না তৃণমূল। ঘটনাচক্রে, তার কিছু পরেই উত্তরবঙ্গগামী বিমানে ওঠার আগে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও এ নিয়ে মুখ খোলেন। এবং যাবতীয় বিতর্কের অবসান ঘটিয়ে দলনেত্রী বলেন, “এটা নিয়ে অযথা বিতর্কের কিছু নেই। আমাদের দলের কেউ বিদেশে যাচ্ছে না, তার মানে এই নয় যে, আমরা তা বয়কট করছি। জাতীয় নিরাপত্তা ইস্যুতে কেন্দ্রের পাশে আছি।” মমতা জানান, তিনি দলের লোকসভা এবং রাজ্যসভায় দলের চেয়ারপার্সন। কিন্তু তাঁকেও কেন্দ্রীয় সরকার কিছু জানায়নি। এক তরফা ভাবে ইউসুফের নাম দিয়ে দেওয়া হয়েছে। সেটাতেই তাঁর আপত্তি।
সম্প্রতি ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পর বিশ্বের সামনে পাকিস্তানের মুখোশ খুলে দিতে সংসদীয় প্রতিনিধি দলকে বিদেশে পাঠাচ্ছে মোদী সরকার। কিন্তু গোলমাল সেই দলের সদস্য নির্বাচন নিয়ে। দলের সদস্যদের নাম বাছাইয়ে মোদী সরকারের বিরুদ্ধে রাজনীতি করার অভিযোগ করেছে কংগ্রেস, তৃণমূল, উদ্ধবপন্থী শিবসেনা। কংগ্রেস সাংসদ শশী থারুরকে নিয়ে এই সমস্যার সূত্রপাত। এ বার তা থারুর হয়ে পাঠান পর্যন্ত পৌঁছে গেল। সূত্রের খবর, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু ফোন করেছিলেন পাঠানকে। কিন্তু দলের সঙ্গে কথা না বলে সরাসরি পাঠানের সঙ্গে কেন কথা বলবে সরকার, তা নিয়ে অসন্তোষ ছিল তৃণমূলের অন্দরে। মমতা-অভিষেকের জোড়া বয়ানেও সে কথাই স্পষ্ট হল। যদিও তৃণমূল স্পষ্ট করে দিয়েছে, তাদের আপত্তি কেবলমাত্র একতরফা সদস্য নির্বাচন নিয়ে, জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে দল সর্বত ভাবে রয়েছে কেন্দ্রীয় সরকারের পাশেই।
