For poster: অর্ডার করেও মিলল না রাখি, অ্যামাজনকে মোটা জরিমানা আদালতের
অ্যামাজনে রাখি অর্ডার করেছিলেন দিদি। রাখিটির দাম ছিল ১০০ টাকা। কিন্তু নির্ধারিত সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও রাখি হাতে আসেনি দিদির। উল্টে অনেক দিন পর অর্ডার বাতিল করে মহিলাকে ১০০ টাকা ফিরিয়ে দেয় অ্যামাজন। ক্ষুব্ধ মহিলা ক্রেতা সুরক্ষা আদালতের দ্বারস্থ হন। মুম্বইয়ের সেই আদালত অ্যামাজনকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে।
ঘটনার সূত্রপাত, ২০১৯ সালের ২ আগস্ট। এক মহিলা অ্যামাজন থেকে তাঁর ভাগ্নের জন্য ‘মোটু পাতলু কিডস রাখি’ অর্ডার করেন। রাখিটির দাম ছিল ১০০ টাকা। ওয়েবসাইটে রাখি ডেলিভারির সময়সীমা উল্লেখ ছিল ৮ থেকে ১৩ আগস্টের মধ্যে। কিন্তু রাখিটি তাঁর হাতে পৌঁছায়নি। তদন্তে জানা যায়, পণ্যটি অর্ডারের আগেই ২৫ জুলাই পাঠানো হয়েছিল এবং তা পাঠানো হয়েছিল এমন একটি কুরিয়ার কোম্পানির মাধ্যমে, যা ইতিমধ্যেই বন্ধ হয়ে গিয়েছে। পরে অ্যামাজন অর্ডারটি বাতিল করে এবং ১৪ আগস্ট গ্রাহকের অর্থ ফেরত দেয়।
মহিলা বিষয়টি নিয়ে আইনি সাহায্য নেন। ক্রেতা সুরক্ষা আদালতে দাবি করেন সাড়ে ৪ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ। তাঁর অভিযোগ, অ্যামাজনের গাফিলতিতে তিনি মানসিক ভাবে আঘাত পেয়েছেন। অ্যামাজন পাল্টা যুক্তি দেয়, তারা কেবল একটি অনলাইন মার্কেটপ্লেস। পণ্যের জন্য দায়ী নয়। কিন্তু আদালত অ্যামাজনের এই দাবি মানেনি। রায়ে বলা হয়, যে হেতু অর্ডার ও পেমেন্ট অ্যামাজনের মাধ্যমেই হয়েছে, এবং তারা কখনও বিক্রেতা “ধনশ্রী রাখি”-কে টাকা পাঠায়নি, তাই পরিষেবায় ঘাটতির দায় তাদেরই নিতে হবে।
কমিশনের পর্যবেক্ষণ, “অনলাইন মার্কেটপ্লেস হিসেবে অ্যামাজনের দায়িত্ব ছিল বিক্রেতার অবস্থান যাচাই করা ও সময় মতো পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করা। সেটা না করে তারা একটি বন্ধ হয়ে যাওয়া কুরিয়ার সংস্থার উপর দায়িত্ব দিয়ে দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ করেছে।” তবে মহিলার দাবি করা সাড়ে ৪ লক্ষ টাকার ক্ষতিপূরণের আর্জি মঞ্জুর করেনি কমিশন। কারণ, রাখিটি তাঁর কাছে ‘অমূল্য’ হলেও তা খোলা বাজারে সহজেই পাওয়া যায়। মানসিক আঘাতের বিষয়ে মহিলা জোরালো প্রমাণ দিতে পারেননি। তবু, পরিষেবায় ঘাটতির কথা মাথায় রেখে অ্যামাজনকে ৩০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ ও ১০ হাজার টাকা আইনি খরচ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ৬০ দিনের মধ্যে এই টাকা দেওয়া না হলে বার্ষিক ৬ শতাংশ হারে সুদও দিতে হবে অ্যামাজনকে। এই রায় ই-কমার্স গ্রাহকদের মধ্যে আলোড়ন তুলেছে।
