সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়
শতাব্দী প্রাচীন ঐতিহ্যশালী মোহনবাগান ক্লাবের রশি কে ধরবে তা নিয়েই এখন চলছে ময়দানের লড়াই। বিশেষ করে উত্তর কলকাতার অলিতে-গলিতে থাকা ক্লাব সদস্যরাই সবচেয়ে বেশি সক্রিয়। কারণ মোহনবাগান ক্লাবের মোট ভোটারের অধিকাংশই উত্তর কলকাতার বাসিন্দা। তাই নির্বাচনের জয়-পরাজয় যে অঞ্চলের উপর নির্ভরশীল ,সেই অঞ্চলের ক্লাব সদস্যদের মন জয় করতে স্বভাবতই উঠে-পড়ে লেগেছে বর্তমান শাসকগোষ্ঠী ও তার প্রতিপক্ষ। বিদায়ী সচিব দেবাশিস দত্ত বনাম ক্লাবের প্রাক্তন সম্পাদক তথা দৈনিক বাংলা সংবাদপত্রের কর্ণধার সৃঞ্জয় বসু(টুম্পাই)। ক্লাব দখলের লড়াইতে কেউ কাউকে এক ইঞ্চি জমি ছাড়তে নারাজ। শতাব্দী প্রাচীন মোহনবাগান ক্লাবের ভোটার সংখ্যা ৬৮১৮ জন। তার মধ্যে কেবলমাত্র উত্তর কলকাতার সদস্য রয়েছে ২০১০ জন, বৃহত্তর উত্তর – পূর্ব কলকাতা ধরলে তা বেড়ে দাঁড়াবে ৩৮১২ তে। মোহনবাগান ক্লাবের ধাত্রীগৃহ বলে পরিচিত প্রাচীন সেন বাড়ি এবং বসু বাড়ি এই অঞ্চলের মধ্যেই।বহু প্রাচীন বনেদি বাড়ি যারা বংশপরম্পরায় মোহনবাগান ক্লাবের সঙ্গেই জড়িত তাদেরও বেশিরভাগই এই আঁচল জুড়েই। ১৯১১ সালের ঐতিহাসিক আইএফএ শিল্ডে ইংরেজদের হারিয়ে জয় লাভ আজও ইতিহাস। ওই সমস্ত জয়ীদের মর্মর মূর্তি প্রতিষ্ঠা থেকে রাস্তার নামকরণ ও তোরণ নির্মাণের মূল কান্ডারী স্থানীয় বিধায়ক ও কলকাতা পুরসভার ডেপুটি মেয়রও এই নির্বাচনী জ্বরে আক্রান্ত। বর্তমান শাসকগোষ্ঠীর সচিব পদপ্রার্থী দেবাশীষ দত্তের সমর্থনে কোমর বেঁধে নেমেছেন অতীন। তাঁর মতে, ” উত্তর কলকাতার অধিকাংশ ক্লাব সদস্যরাই বর্তমান কমিটির প্রার্থীদের সঙ্গে রয়েছেন। বর্তমান কমিটি গত তিন বছর যাবৎ ক্লাবের স্বার্থে অনেক কাজ করেছে। ক্লাবের হারিয়ে যাওয়া মান-সন্মান -ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি বর্তমান কমিটির হাত ধরে ফিরে এসেছে। বর্তমান কমিটির সদস্যদের সঙ্গে সদস্যদের সম্পর্কও মধুর।” পিছিয়ে নেই বিরোধী গোষ্ঠীর সচিব পদপ্রার্থী সৃঞ্জয় বসু ও তাঁর অনুগামীরাও। সৃঞ্জয়ের সমর্থনে বেলেঘাটা এলাকার দুই এবং উত্তর কলকাতার এক কাউন্সিলর ও বঙ্গ সিপিআইএম সম্পাদকের স্নেহধন্য নেতা ময়দানের ভোটে দরজায়-দরজায় প্রচার সারছেন।
পাশাপাশি মোহনবাগান ক্লাবের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আরম্ভ হয়েছে আইনি যুদ্ধও। তাঁর বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যেপ্রণোদিত হয়ে নিজস্ব মালিকানাধীন সংবাদপত্রে মিথ্যা প্রচার চালাচ্ছেন সৃঞ্জয় বসু বলে অভিযোগ তুলে বর্তমান সচিব দেবাশিষ দত্ত ওই সংবাদপত্রের এডিটর ইন চিফের বিরুদ্ধে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন । বিরোধী সচিব পদপ্রার্থী সৃঞ্জয় বসুর বিরুদ্ধে পাঠানো তিন পাতার আইনি নোটিশে মানহানি মামলা করারও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।
ছেলের সমর্থনে ক্লাবের সভাপতির পদ থেকে পদত্যাগ করে সরাসরি প্রচারে গা লাগিয়েছেন স্বপ্ননসাধন ( টুটু) বসুও। শতবর্ষের এই ঐতিহ্যবাহী ক্লাবের নির্বাচন ও আইনি লড়াই নিয়ে এখন সরগরম কলকাতা ময়দান। যদিও কবে মোহনবাগান ক্লাবের নির্বাচন হবে তা এখনও পর্যন্ত ঘোষণা করেনি আদালত নিযুক্ত পাঁচ সদস্যের কমিটি।
