ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতির পর ফের বিটিং রিট্রিট অনুষ্ঠান ভারত-পাক সীমান্তে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পাঞ্জাবের আটারি-ওয়াঘা, হুসেইনিওয়ালা এবং ফাজিলকা সীমান্তে সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃক বিটিং রিট্রিট অনুষ্ঠান হবে। তবেছোট আকারে পুনরায় শুরু হতে চলেছে এই অনুষ্ঠান বলে জানা গিয়েছে।
বিএসএফ সূত্রে খবর, বিটিং রিট্রিট অনুষ্ঠান অমৃতসরের কাছে আটারি সীমান্তে, ফিরোজপুরের হুসেইনিওয়ালা সীমান্তে এবং ফাজিলকার সাদকি সীমান্তে অনুষ্ঠিত হবে। সন্ধ্যে ৬টায় হবে এই অনুষ্ঠান। বিএসএফ কর্মকর্তারা আইএএনএসকে জানান, পাকিস্তানি পক্ষের সশস্ত্র কর্মীদের সঙ্গে কোনও করমর্দন বা সীমান্ত গেট খোলা হবে না। যদিও এই আকর্ষণীয় অনুষ্ঠানটি দেখার অনুমতি দেওয়া হবে দর্শকদের।
এই বিটিং রিট্রিট অনুষ্ঠান উপভোগ করতে হলে স্থানীয় বাসিন্দাদের বিকেল ৫.৩০ টার মধ্যে সাদকিতে পৌঁছানোর আহ্বান জানিয়েছেন বর্ডার এরিয়া ডেভেলপমেন্ট ফ্রন্ট। এমনিতে এই বিটিং রিট্রিট অনুষ্ঠান দেখার জন্য বহু পর্যটকদের ভিড় জমে ভারত-পাক সীমান্তে। আসেন বিদেশীরাও।
উল্লেখ্য, ১৯৫৯ সাল থেকে সন্ধ্যার ঠিক আগে ভারত ও পাকিস্তান উভয়েরই সামরিক মহড়া এবং জাতীয় পতাকা অবতরণ প্রত্যক্ষ করে আসছে। এই আকর্ষণীয় অনুষ্ঠানই বিটিং রিট্রিট নামে পরিচিত। অমৃতসরের কাছে দুই দেশের সীমান্তে উচ্ছ্বসিত দর্শকদের উপর এক মনোমুগ্ধকর প্রভাব ফেলে এমন ধরণের প্রতীকী অনুষ্ঠান। সাধারণত দীপাবলি এবং ঈদের মতো বিশেষ অনুষ্ঠানে এবং স্বাধীনতা দিবস এবং প্রজাতন্ত্র দিবসের অনুষ্ঠানে এক অপরের মধ্যে মিষ্টি বিনিময় করে থাকেন উভয় পক্ষের সীমান্তরক্ষীরা।
অমৃতসর থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে এবং পাকিস্তানের লাহোর থেকে ২২ কিলোমিটার দূরে আটারি-ওয়াঘা যৌথ চেকপোস্টে পতাকা অবতরণ অনুষ্ঠানের সাক্ষী থাকার জন্য করার জন্য প্রায় ২৫,০০০ দর্শকের ধারণক্ষমতা সম্পন্ন একটি গ্যালারি রয়েছে। সেখানেই জড়ো হন বহু মানুষ।
করোনা মহামারীর কারণে ২০২০ সালের মার্চ মাসের প্রথম সপ্তাহে গ্যালারি দর্শকদের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়। জম্মু ও কাশ্মীরে নিয়ন্ত্রণ রেখা (এলওসি) জুড়ে ক্রমবর্ধমান যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের ঘটনায় ২০১৯ সালে এই ঐতিহ্যবাহী অনুষ্ঠান না করার সিদ্ধান্ত নেয় ভারত। ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরেও সীমান্ত পেরিয়ে ভারতীয় বাহিনীর সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের পর, বিএসএফ পাকিস্তান রেঞ্জার্সদের মিষ্টি বিতরণ থেকেও বিরত ছিল। এবার ফের শুরু হচ্ছে বিটিং রিট্রিট, তবে কোনও আনুষ্ঠানিকতার সুযোগ থাকবে না।
