পাকিস্তানের ঘুমন্ত আগ্নেয়গিরির মতো ভয়ঙ্কর সংগঠন লশকর-এ-তইবার অন্দরমহলে কি তবে বিস্ফোরণ? সেই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে গোয়েন্দা মহলে, কারণ সংগঠনের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও মুখপত্র আমির হামজ়া গুরুতর জখম হয়ে এখন লাহৌরের সামরিক হাসপাতালে আইএসআই নিরাপত্তায় চিকিৎসাধীন।
৬৬ বছর বয়সি হামজ়া তাঁর বাড়িতেই রক্তাক্ত হন। প্রথমে মনে করা হয়েছিল দুর্ঘটনা, কিন্তু সঠিক তথ্য গোপন করে সেনা হাসপাতালের আশ্রয় নেওয়া ও লশকরঘনিষ্ঠ টেলিগ্রাম চ্যানেলগুলিতে সঙ্কটের সময় সংঘবদ্ধ থাকার আহ্বান সব মিলিয়ে জল্পনার পারদ চড়ছে।
মাত্র তিন দিন আগে লশকরের আর এক নেতা, আবু সইফুল্লা অজ্ঞাত বন্দুকধারীদের গুলিতে খুন হন। সেই ঘটনার রেশ কাটার আগেই হামজ়ার রহস্যজনক আহত হওয়া এ কি কাকতালীয়? নাকি জঙ্গি-সিন্ডিকেটের মধ্যে শুরু হয়েছে রক্তাক্ত ক্ষমতা দখলের খেলা?
আমির হামজ়া কোনও সাধারণ জঙ্গি নন। হাফিজ় সঈদের ডানহাত, লশকরের প্রচারের মুখ, এবং ২০০৫ সালে বেঙ্গালুরুর আইআইএসসি হামলার অন্যতম মাস্টারমাইন্ড। আমেরিকা ২০১২-তেই তাঁকে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদী হিসেবে ঘোষণা করে। ২০১৮-তে যখন জামাত-উদ-দাওয়ার উপর নিষেধাজ্ঞা আসে, তখন তাঁর পরিকল্পনায় জন্ম নেয় ছদ্ম সংগঠন ‘জইশ-ই-মানকাফা’।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হামজ়ার উপর এই ‘ঘরের আঘাত’ লশকরের অন্দরে বিশ্বাসঘাতকতার ইঙ্গিতও হতে পারে। আবার কেউ কেউ বলছেন, হয়তো পাকিস্তান নিজেই ধীরে ধীরে নিষ্ক্রিয় করতে চাইছে ‘পুরোনো আগুন’কে আন্তর্জাতিক চাপের মুখে।
ভারত এই ঘটনার দিকে কড়া নজর রাখছে। কারণ, সীমান্তের ওপার থেকে ছায়াযুদ্ধের ছায়া এখনও ঘন। আর এই রক্তাক্ত অধ্যায় হয়তো ইঙ্গিত দিচ্ছে লশকরের ভিতরে ঝড় উঠেছে, যার প্রভাব শুধু পাকিস্তান নয়, উপমহাদেশ জুড়েই পড়তে চলেছে।
