শেখ হাসিনা পরবর্তী বাংলাদেশে বারবার দ্রুত নির্বাচনের দাবি জানিয়ে চলেছে বিএনপি।কিন্তু বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা বারবার নানা সংস্কার কর্মসূচীর কারণ দেখিয়ে তা পিছিয়ে দিচ্ছেন বলে অভিযোগ খালেদা জিয়ার দলের। এর আগে হয় ২০২৪-এর ডিসেম্বরে না হলে আগামী বছরের জুলাই মাসের মধ্যে নির্বাচন হবে বলে জানান প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস।
তা নিয়ে মোটেই খুশি নয় বিএনপি নেতৃত্ব। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ইতোমধ্যেই জানিয়েছেন, বড় ধরণের সংস্কার করতে হলে নির্বাচন আগামী বছরের জুনে হতে পারে। আর ছোট আকারের সংস্কার হলে নির্বাচন হতে পারে ডিসেম্বরে।কিন্তু সংস্কারের জন্য ডিসেম্বরের পরে নির্বাচনের আয়োজনের বিরোধী বিএনপি।
কদিন আগেই জাতীয় নির্বাচনের আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের দাবি জানান জাতীয় নাগরিক পার্টির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড অ্যাকাউন্টে এক পোস্টে সারজিস আলম এ কথাগুলো বলেন।বিএনপি এর প্রতিবাদ করে জানায়
যে অনেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীন স্থানীয় সরকার নির্বাচনও চাইলেও তা সম্ভব নয়। তাঁর দাবি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তৈরি হয় শুধুমাত্র জাতীয় নির্বাচনের জন্য।এসব বলার মানে, জাতীয় নির্বাচন বিলম্বিত করার চেষ্টা করা। তাঁর আরও দাবি বাংলাদেশের কিছু রাজনৈতিক ও সামাজিক শক্তি নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে দেরি করতে চায়। অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে জাতীয় নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়ার চক্রান্ত চলছে বলে মন্তব্য করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
এমন পরিস্থিতিতে নির্বাচন ইস্যুতে সরকারের ওপর চাপ তৈরির নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদল নেতা শাহরিয়ার আলম সাম্য হত্যার বিচার এবং ইশরাক হোসেনকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র হিসেবে শপথ নেয়ানোর দাবিতে যে আন্দোলন চলছে, সেটি সরকারের ওপর চাপ তৈরির কৌশলেরই অংশ বলে জানা গেছে। চলতি বছরের ২৭ মার্চ একটি নির্বাচনি ট্রাইব্যুনাল ২০২০ সালের নির্বাচনের ফল বাতিল করে ইশরাক হোসেনকে নির্বাচিত ঘোষণা করে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন যে ঢাকা দক্ষিণ সিটির মেয়র পদটিকে জাতীয় ইস্যুতে পরিণত করাটা বিএনপির একটি রাজনৈতিক কৌশল।
এমন পরিস্থিতিতে অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব থেকে দুই উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া ও মাহফুজ আলমকে পদত্যাগের আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেন। বুধবার তিনি তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি দুজনকে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রাক্তন উপদেষ্টা নাহিদ ইসলামের দৃষ্টান্ত অনুসরণ করতে বলেছেন। তার দাবি, “আপনারা পদত্যাগ করলে বর্তমান সরকারের নিরপেক্ষতার ইমেজই বৃদ্ধি পাবে।…”
এদিকে অন্তবর্তী সরকারের পক্ষে থাকা দল হিসেবে পরিচিত এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বিএনপির নাম না করেই তোপ দেগেছেন। প্রথম আলোর রিপোর্ট অনুযায়ী তিনি জানিয়েছেন যে, একটা বৃহৎ রাজনৈতিক দল ও প্রতিষ্ঠিত দল হিসেবে যে ম্যাচিউরিটি জনগণ তাদের কাছ থেকে আশা করে, তারা সেটা দেখাচ্ছে না। তার অভিযোগ নানাভাবে দেশে একটা অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা চলছে।
Leave a comment
Leave a comment
