Mamata Banerjee: ২১ মে আন্তর্জাতিক চা দিবস। এমনই বিশেষ দিনে উত্তরবঙ্গে চা বাগানে চা শ্রমিকদের পাশে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনদিনের উত্তরবঙ্গ সফরের শেষ দিনে বিমানবন্দরে যাওয়ার পথে চা শ্রমিকদের সঙ্গে জনসংযোগ সারলেন মুখ্যমন্ত্রী। মহিলাদের শাড়ি, বাচ্চাদের চকলেট ও খেলনা পুতুলও তুলে দিলেন মমতা।
পাহাড়ে গেলেই চা শ্রমিকদের সঙ্গে জনসংযোগে মমতার কার্যত জুড়ি মেলা ভার। কখনও সটান চা বাগানে নেমে চা পাতা তুলেছেন, কখনও দোকানে ঢুকে আবার নিজের হাতেই চা বানিয়েছেন। আর এদিন চা দিবসেও তার অন্যথা হল না। কলকাতা ফেরার পথে বাগডোগরা বিমানবন্দরের কাছেই একটি চা বাগানের পাশে মুখ্যমন্ত্রীর কনভয় থামে। গাড়ি থেকে নেমে শ্রমিকদের সঙ্গে খোশমেজাজে আলাপচারিতায় দেখা যায় তাঁকে।
শ্রমিকরা কতক্ষণ কাজ করেন, কখন তাঁরা কাজে আসেন, জানতে চান মমতা। রাত ৯টা পর্যন্ত চা শ্রমিকরা কাজ করেন শুনে অবাক হন মমতা। কেন এতক্ষণ কাজ করতে হয়, সেই প্রশ্ন করেন মুখ্যমন্ত্রী। চা শ্রমিকদের সন্তানেরা স্কুলে যায় কি না, তাও জানতে চান। শ্রমিক মহিলাদের ৫০০টি শাড়ি উপহার দেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীকে কাছে পেয়ে উচ্ছ্বসিত হন চা শ্রমিকরাও।
বুধবার উত্তরকন্যা প্রেক্ষাগৃহে উত্তরবঙ্গের আটটি জেলা কোচবিহার, দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার, দুই দিনাজপুর এবং মালদহ নিয়ে জেলার প্রশাসনিক পর্যালোচনা বৈঠক সারেন মুখ্যমন্ত্রী। জেলাশাসক, পুলিশ সুপার-সহ শীর্ষস্থানীয় প্রশাসনিক আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন। তবে মালদহ ও দুই দিনাজপুরের প্রতিনিধিরা ভার্চুয়ালি অংশগ্রহণ করে বলে জানান।
মঙ্গলবারের পর বুধবারও ফের বৈঠকে কেন্দ্রীয় বঞ্চনা নিয়ে সরব মুখ্যমন্ত্রী। মমতার দাবি, উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতে কেন্দ্র টাকা বন্ধ করলেও রাজ্য নিজ উদ্যোগে কাজ করে চলেছে। পাশাপাশি রাজ্য, জেলা, ব্লক স্তরে কন্ট্রোল রুম চালু করার পরামর্শ মমতার। অনুপ্রবেশ বা জঙ্গি প্রবেশ রুখতে সীমান্তবর্তী রাজ্যের পুলিশ প্রশাসনকে সতর্ক থাকতে এবং স্থানীয় অঞ্চলে টহলদারি বৃদ্ধির নির্দেশ মমতার।
