‘অপারেশন সিঁদুর’ নিয়ে প্রথম বার মুখ খুললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। রাজস্থানের বিকানেরের সভায় মোদীর হুঙ্কার, “সিঁদুর যখন বারুদ হয়ে যায়, তার ফল কী ভয়ঙ্কর হয় তা আজ গোটা দুনিয়া দেখে ফেলেছে।” বালাকোট এয়ার স্ট্রাইকের পর তিনি প্রথম সভা করেছিলেন যে রাজস্থানে, ঘটনাচক্রে অপারেশন সিঁদুরের পরও মোদী এলেন সেই মরু রাজ্যেই। সেখান থেকেই প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা, আমাদের সেনা পাকিস্তানকে মাথা ঝোঁকাতে বাধ্য করেছে।
গত ২২ এপ্রিল কাশ্মীরের পহেলগামে জঙ্গি হামলা কেড়ে নিয়েছিল ২৬টি তরতাজা প্রাণ। তার পর শুরু হয় ‘অপারেশন সিঁদুর’। পাকিস্তান এবং পাক অধিকৃত কাশ্মীরের ৯টি জঙ্গি ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দেয় ভারতীয় বায়ুসেনা। পাকিস্তানের হামলার জবাব দিতে টার্গেট করা হয় পাক সামরিক ঘাঁটিগুলিও। তার পর আচমকাই যুদ্ধবিরতি এবং তা নিয়ে দুনিয়াজোড়া বিতর্ক। এই আবহে প্রথম বার তা নিয়ে মুখ খুললেন মোদী। সরাসরি বলে দিলেন, “এ প্রতিশোধের লড়াই নয়, এটাই ন্যায়ের নয়া স্বরূপ। এটা সমগ্র ভারতের রুদ্ররূপ।” মোদী বলেন, “গত ২২ এপ্রিল ধর্ম জিজ্ঞেস করে জঙ্গিরা মানুষ মেরেছিল। আমাদের বোনেদের সিঁথির সিঁদুর মুছেছিল। গুলি চলেছিল পহেলগামে কিন্তু ওই গুলিতে ১৪০ কোটি দেশবাসীর হৃদয় ছিন্নভিন্ন হয়ে গিয়েছিল। তারপর দেশ শপথ নেয়, জঙ্গিদের মাটিতে মিশিয়ে দেওয়ার। এমন শাস্তি, যার কল্পনাও করতে পারবে না জঙ্গিরা। আজ আমরা সেই লক্ষ্যে পুরোপুরি সফল। ২২ তারিখের হামলার জবাবে আমরা মাত্র ২২ মিনিটে জঙ্গিদের সব ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দিলাম। গোটা দুনিয়া দেখল, সিঁদুর যখন বারুদ হয়ে যায়, তার ফল কী ভয়ঙ্কর হয়।”
প্রধানমন্ত্রী জানান, নয়া ভারতের তিনটি নীতি। প্রথমত, হামলা হলেই কঠোর জবাব। কী ভাবে, কখন এবং কী শর্তে জবাব দেওয়া হবে, তা স্থির করবে সেনাবাহিনী। দ্বিতীয়ত, পরমাণু বোমার জুজু দেখিয়ে ভারতকে থামানো যাবে না। তৃতীয়ত, সন্ত্রাসবাদের মদতদাতা এবং সন্ত্রাসবাদীদের আলাদা করে দেখবে না ভারত।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “মোদীর মাথা ঠাণ্ডা, কিন্তু রক্ত গরম। আর এখন মোদীর শরীরে রক্ত নয়, গরম সিঁদুর বইছে।” মোদী স্পষ্ট করেন, পাকিস্তান বেচাল কিছু করলেই উপযুক্ত জবাব পাবে। এটাই সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ভারতের জিহাদের নতুন পথ। পহেলগামে জঙ্গি হানার এক মাস হয়ে গেল, প্রথম বার মুখ খুলে পাকিস্তানকে কঠোর ভাষায় আক্রমণও করলেন মোদী। যদিও এখনও অধরা পহেলগামকাণ্ডের আততায়ীরা।
