রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেন যুদ্ধ শেষ করতে চান না, কারণ তিনি মনে করেন যে তিনি জয়ের পথেই এগোচ্ছেন – গত সোমবার পুতিনের সঙ্গে দু ঘণ্টা ধরে ফোনে কথা বলার পর এমনই মনে হয়েছিল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের। কিন্তু সে তথ্য তখন প্রকাশ্যে আসে নি। ট্রাম্পের সেই মনে হওয়ার ব্যাপারটা তাদের রিপোর্টে প্রকাশ করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্ট।
ওয়াশিংটন পোস্টের একটি রিপোর্ট অনুযায়ী, ট্রাম্পের এই অনুভব বা স্বীকারোক্তির ব্যাপারটা উঠে এসেছে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাক্রোঁ, জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ মের্ৎস, ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি এবং ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লেয়েনের সঙ্গে তাঁর সোমবার টেলিফোনে হওয়া কথোপকথনে।পুতিনের সঙ্গে আলোচনার পরই ইউরোপের নেতাদের সঙ্গে কনফারেন্স কল করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। যদিও পুতিন শান্তির জন্য প্রস্তুত নন এমনটা জেনেও ট্রাম্প প্রকাশ্যে এই মতবাদই রাখেন যে পুতিন শান্তি চান। তবে, এই স্বীকারোক্তি তাকে ইউরোপীয় নেতা ও জেলেনস্কির চাওয়াকে পূরণ করতে পারেনি।
এর আগে, রবিবার ইউরোপীয় নেতাদের সঙ্গে আলোচনায় ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে যদি পুতিন যুদ্ধবিরতি মানতে অস্বীকার করলে তিনি রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা চাপানোর কথা ভাববেন। কিন্তু পরের দিনই, ওয়াশিংটন পোস্টের তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্প এই অবস্থান থেকে সরে আসেন এবং রাশিয়ার বিরুদ্ধে কোনো জবরদস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে রাজি হননি। পুতিনের সঙ্গে ফোনে কথা বলার পরেই ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প জানান যে রাশিয়া ও ইউক্রেন অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি আলোচনা শুরু করতে যাচ্ছে। তিনি তার এই কথোপকথনকে ‘অত্যন্ত সফল’ বলে আখ্যা দেন। কাজেই রাশিয়া – ইউক্রেন যুদ্ধ থামাটা অনেকে সময়ের অপেক্ষা বলেই মনে করতে শুরু করেন।
তবে রাশিয়া যুদ্ধ না থামালেও ইউরোপীয় নেতারা ট্রাম্পের বক্তব্য থেকে এটা বুঝেছেন যে ট্রাম্প প্রশাসন ইউক্রেনে আমেরিকার অস্ত্র রপ্তানি বন্ধ করবে না—যতক্ষণ পর্যন্ত ইউরোপ বা ইউক্রেন এর জন্য অর্থ দেয়। এই মার্কিন নীতি ইউক্রেনকে সাহায্য করতে পারে।
অন্যদিকে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা অবিলম্বে শুরু করার পাশাপাশি ট্রাম্প আরও বলেন যে ভ্যাটিকান, পোপের প্রতিনিধিত্বে আলোচনার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। ইউরোপীয় নেতারা জোর দিয়েছিলেন যে ভ্যাটিকান আলোচনার ফলাফলে একটি “নিঃশর্ত যুদ্ধবিরতি”র ব্যাপার থাকতে হবে। কিন্তু ট্রাম্প “নিঃশর্ত” শব্দটির বিরোধিতা করে দাবি করেন যে তিনি কখনো এটি ব্যবহার করেননি।অথচ ৮ মে ট্রুথ সোশ্যালে একটি পোস্টে তিনি স্পষ্টভাবে ৩০ দিনের একটি নিঃশর্ত যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছিলেন।
Leave a comment
Leave a comment
