সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়
চলতি বছরের নভেম্বর থেকে দেড় বছরের মধ্যে নয় রাজ্য ও একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের বিধানসভা নির্বাচন। এই নির্বাচন গুলিতে ডুপ্লিকেট এপিক কার্ড অথবা ভুতুড়ে ভোটার বা ভুয়ো ভোটার নিয়ে নতুন করে যাতে কোনও রাজনৈতিক ইস্যু তৈরি না হয় সে ব্যাপারে তৎপর জাতীয় নির্বাচন কমিশন। সে কারণেই গত তিন মাসে বিভিন্ন স্তরের নির্বাচন কর্মীদের প্রশিক্ষণের পাশাপাশি মোট ১৮ টি ক্ষেত্রে নির্বাচনী সংস্কারে পদক্ষেপ করেছে কমিশন। শুক্র ও শনিবার ফের সব রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকদের দিল্লিতে ডেকে বৈঠকে বসছেন দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার। আগামীর নির্বাচনগুলিতে নির্বাচনী সংস্কারের ক্ষেত্রে কি কি পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে বা নেওয়া হতে পারে সে সব নিয়ে সার্বিক আলোচনার পাশাপাশি নির্ভুল ও স্বচ্ছ ভোটার তালিকা তৈরির মাধ্যমে ভোটাধিকার প্রয়োগের ক্ষেত্রে দেশবাসীর সাংবিধানিক অধিকার যাতে অক্ষুণ্ণ থাকে তা নিয়েই রূপরেখা তৈরির আলোচনা হবে এই বৈঠকে।
ইতিমধ্যেই দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার ঘোষণা করেছেন দেশজুড়ে ভোটার তালিকায় আর কোন ডুপ্লিকেট নম্বরের এপিক কার্ড নেই। ডুপ্লিকেট নম্বরের বদলে ইউনিক এপিক নম্বর দেশজুড়ে তৈরি করা হয়েছে। পাশাপাশি ভোটকেন্দ্রে ভোটার সংখ্যা নির্দিষ্ট করা হয়েছে। একটি ভোটের বুথে সর্বোচ্চ ১২০০ ভোটার ভোট দিতে পারবেন। বহুতল আবাসন ও কলোনি গুলিতে ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। ভোটার তালিকা থেকে মৃত ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার জন্য সরাসরি ভারতের রেজিস্ট্রার জেনারেলের দপ্তরের সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়েছে কমিশনের সিস্টেমকে। যে সিস্টেমে দিল্লি থেকে দেশের প্রতিটি ব্লকে ভোটার তালিকা তৈরীর কাজে যুক্ত নির্বাচনকর্মীরাও সংযুক্ত রয়েছেন। ভোটাররা যাতে সহজেই বুথ লেভেল অফিসারদের চিহ্নিত করতে পারেন সেভাবে তৈরি হয়েছে তাদের আই কার্ড এবং একইসঙ্গে ভোটার ইনফরমেশন স্লিপ ভোটারদের গ্রহণযোগ্যতা অনুযায়ী আকর্ষণীয় করা হয়েছে।
চলতি বছরের নভেম্বর মাসেই হতে চলেছে বিহারের বিধানসভা নির্বাচন। এরপর ২০২৬-এ একে একে পশ্চিমবঙ্গ,অসম, কেরালা তামিলনাড়ু ও পুদুচেরির নির্বাচন। ২০২৭-এ মনিপুর, পাঞ্জাব,গোয়া ও উত্তরাখণ্ডের বিধানসভা নির্বাচন রয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই এই গোটা কর্মকাণ্ডের প্রেক্ষিতে গণতান্ত্রিক পরিকাঠামোয় ভোটাধিকারের সাংবিধানিক অধিকার রক্ষা এবং আরও বেশি করে দেশের মানুষকে ভোটদান প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্যে সক্রিয় ভূমিকা গ্রহণ করেছে নির্বাচন কমিশন। গত তিন মাসে দেশ জুড়ে সমস্ত স্বীকৃত রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে মোট ৪,৭১৯ টি বৈঠক করেছেন নির্বাচন কমিশন যেখানে প্রায় ২৮ হাজারের বেশি রাজনৈতিক প্রতিনিধিরা অংশ নিয়েছেন। এছাড়াও ৩ হাজারের বেশি বুথ লেভেল অফিসারদের প্রশিক্ষণের পাশাপাশি দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য সমস্ত ধরনের নির্বাচন কর্মী থেকে পুলিশ আধিকারিকদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে। নির্বাচন পদ্ধতির সংস্কারের মাধ্যমে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করি নির্বাচন প্রক্রিয়ার অনলাইন ব্যবস্থাপনাকে সিঙ্গল উইন্ডো সিস্টেমের আওতায় এনেছে নির্বাচন কমিশন। ECINET নামে একটি সিঙ্গেল সিস্টেম বা ড্যাশবোর্ড তৈরি করে ৪০ টির বেশি নির্বাচন সংক্রান্ত এপ্লিকেশন এক ছাতার তলায় আনা হয়েছে। যাতে নির্বাচন প্রক্রিয়ার কাজ আরও সুষ্ঠুভাবে এবং সুসংগতভাবে সহজে পরিচালন করতে পারেন নির্বাচন কর্মীরা। সবমিলিয়ে আগামী দু বছরের মধ্যে নয় রাজ্য ও একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের বিধানসভা নির্বাচনকে গণতান্ত্রিক পরিকাঠামোর মধ্যে সর্বোৎকৃষ্টভাবে সম্পন্ন করতে এবং সাংবিধানিক অধিকারকে প্রতিষ্ঠা করতে নির্বাচন পদ্ধতির সংস্কার থেকে উপযুক্ত যাবতীয় পদক্ষেপ করা হয়েছে বলে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।
