সুদীপ্ত
রাজ্য অর্থ দফতরের অনুমতি ছাড়া ত্রিস্তর পঞ্চায়েতে সাধারণ মানুষের উপর কোনও কর বা ফি ধার্য করা যাবে না। এমনকি
ধার্য থাকা কর বা ফি তুলতে বা পরিবর্তন করতেও পারবে না। মুখ্যসচিবের নির্দেশে রাজ্যের পঞ্চায়েত ও গ্রাম উন্নয়ন দপ্তর জেলাশাসক ও বিডিওদের গাইডলাইন হিসেবে এই নির্দেশিকা পাঠিয়েছে। শুধু পঞ্চায়েতের ত্রিস্তরেই নয় রাজ্যের পুরসভাগুলোর ক্ষেত্রেও একই নির্দেশ বজায় থাকবে বলে জানিয়েছে নবান্ন।
সম্প্রতি রাজ্যের বেশ কিছু গ্রাম পঞ্চায়েত, পঞ্চায়েত সমিতি ও জেলা পরিষদ রাজ্য সরকারের নাম করে পানীয় জলসহ একাধিক পরিষেবা দেওয়ার নামে সাধারণ মানুষের থেকে টাকা তুলছে বলে অভিযোগ পেয়েছে নবান্ন। যা রীতিমতো জুলুমের পর্যায়ে চলে গেছে বলেও নবান্নে অভিযোগ এসেছে।
জেলা পরিষদ বা পঞ্চায়েত ছাড়াও রাজ্যের শহরাঞ্চল বা মফস্বলেও পানীয় জল বা অন্যান্য বিভিন্ন পরিষেবার নামে স্থানীয় পুরসভা গুলো কর আদায় করছে। কর দিতে বাসিন্দারা রাজি না হলে তাদের কর দিতে বাধ্য করা হচ্ছে বা নানা রকম হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও নবান্নে অভিযোগ এসেছে। বেশ কিছু ক্ষেত্রে মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরের আধিকারিকরা অভিযোগগুলি খতিয়ে দেখেছেন এবং সে ক্ষেত্রে সত্যতা সামনে এসেছে। এই অভিযোগগুলির কথা জানতে পেরে সমাগতই ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। এনিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশাসনের শীর্ষ স্তরে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। অবিলম্বে বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনিক স্তরে আলোচনা করে উপযুক্ত পদক্ষেপ করতে রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ পন্থকে নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী। আর মুখ্যমন্ত্রীর ক্ষোভ প্রকাশের পরই তৎপর হয় নবান্ন। প্রয়োজনীয় বিষয়গুলি খতিয়ে দেখে এবং আলোচনার পর মুখ্যসচিবের উদ্যোগেই রাজ্য পঞ্চায়েত দফতরের পক্ষ থেকে জেলায় জেলায় এই নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছে। নির্দেশিকায় উল্লেখ করা হয়েছে এই ধরনের ফি বা করের নামে অনুমতি ছাড়া টাকা তুললে তা সরকারি নির্দেশিকাকে অমান্য করে নেওয়া হচ্ছে বলে ধরা হবে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ারও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে নির্দেশিকায়। বিডিও, জেলাশাসকদের এই নির্দেশিকা কঠোরভাবে কার্যকর করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি এই নির্দেশিকা যাতে যথাযথভাবে মেনে চলা হয় তা নজর রাখতে মুখ্যসচিব আলাদাভাবে নির্দেশ দিয়েছেন জেলাশাসকদের।
