ছোট হেড- হাইকমান্ডের নির্দেশে রাহুল-সনিয়ার সংস্থায় লক্ষ টাকা ‘দান’ কংগ্রেস নেতাদের!
National Herald Case: ন্যাশনাল হেরাল্ড মামলায় আরও বিস্ফোরক ইডি। কংগ্রেসের বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ। সনিয়া ও রাহুলের সংস্থা ইয়ং ইন্ডিয়ান লিমিটেডে বরিষ্ঠ কংগ্রেস নেতাদের ডোনেশন দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি। বিভিন্ন রাজ্যে শীর্ষ কংগ্রেস নেতারা ওই সংস্থায় লক্ষ লক্ষ টাকা অনুদান হিসেবে দিয়েছেন বলে অভিযোগ। চার্জশিটে ইডির বিস্ফোরক দাবি, ইয়ং ইন্ডিয়ানের ফান্ড বাবদ সমস্ত সেই টাকা আত্মসাৎ করেছেন রাহুল গান্ধী ও সনিয়া গান্ধী।
ইডির আরও দাবি, ন্যাশনাল হেরাল্ড সংবাদপত্রের পাবলিশার অ্যাসোসিয়েটেড জার্নালস লিমিটেডের ২০০০ কোটি টাকার সম্পত্তি মাত্র ৫০ লক্ষ টাকার বিনিময়ে আত্মসাৎ করে ইয়ং ইন্ডিয়ান লিমিটেড। গোটা ওই আর্থিক লেনদেনে কারচুপি হয়েছে বলে অভিযোগ। এই লেনদেনের সিংহভাগ আবার তেলেঙ্গানার সঙ্গে জড়িত। তৎকালীন বিধায়ক তথা বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী রেবন্ত রেড্ডির নির্দেশে কংগ্রেস নেতারা সনিয়া রাহুলের ওই সংস্থায় ২০২২ সালে ৮০ লক্ষ টাকা অনুদান বাবদ দিয়েছিলেন বলে দাবি।
ইডির তদন্তে আরও দাবি, তেলেঙ্গানার পাশাপাশি কর্ণাটক ও পঞ্জাবেরও যোগ উঠে এসেছে এই মামলায়। প্রবীণ কংগ্রেস নেতা পবন বনসলের নির্দেশে কংগ্রেসের কর্নাটকের সভাপতি ডিকে শিবকুমার ও তাঁর ভাই, সাংসদ ডিকে সুরেশ ইয়ং ইন্ডিয়ানে ২০২২ সালের এপ্রিলে ২৫ লক্ষ টাকা অনুদান দেন বলে দাবি। ২০১৫ সালে আবার পঞ্জাবের অমিত ভিজ তিন দফায় ৩.৩০ কোটি টাকা অনুদান বাবদ ওই সংস্থায় দিয়েছিলেন বলে দাবি।
আদালতে সাপ্লিমেন্টারি প্রামাণ্য জমা করতে চলেছে ইডি। আর তাই আগামী সপ্তাহেই ন্যাশনাল হেরাল্ড মামলায় একাধিকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারে ইডি। প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত একাধিক ব্যক্তির কাছে সমন যেতে পারে। যদিও এখনও পর্যন্ত কংগ্রেস গোটাটাই রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত বলে দাবি করে এসেছে। যদিও ইডির তদন্তে যে সমস্ত নাম উঠে এসেছে, তাতে করে এই মামলা কংগ্রেসের কাছে বড় ধাক্কা হতে চলেছে তা সন্দেহাতীত।
এর আগে দুর্নীতির ১৪২ কোটি টাকা খোদ সনিয়া গান্ধী ও রাহুল গান্ধী আত্মসাৎ করেছেন বলে আদালতে দাবি করে ইডি। দিল্লির রাউস অ্যাভিনিউ কোর্টে বুধবার মামলার শুনানিতে এমনই দাবি করে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। গত মাসে ন্যাশনাল হেরাল্ড দুর্নীতি মামলায় আর্থিক তছরুপের একাধিক ধারায় দিল্লির রাউস অ্যাভিনিউ আদালতে চার্জশিট দাখিল করে ইডি। চার্জশিটে প্রথম অভিযুক্ত হিসেবে নাম ছিল প্রাক্তন কংগ্রেস সভাপতি সনিয়া গান্ধীর। দ্বিতীয় অভিযুক্ত হিসেবে নাম ছিল কংগ্রেস সাংসদ তথা লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর।
