দিব্যেন্দু মজুমদার, হুগলি
পাকিস্তানের হাতে বন্দী থাকার পর মুক্তিপ্রাপ্ত জওয়ানের শুক্রবার রিষড়ায় বাড়ি ফেরার খবর এসে পৌঁছাতেই গোটা রিষড়া জুড়ে উৎসবের আনন্দে মাতল এলাকার মানুষ। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য পহেলগামে নিরীহ পর্যটকদের উপর জঙ্গি হানার পরের দিন ২৩ এপ্রিল পাঠানকোটে কর্মরত বিএসএফের জওয়ান পূর্ণম কুমার সাউ পাক রেঞ্জার্সদের হাতে বন্দী হন। দীর্ঘ ২২ দিন শত্রু দেশে বন্দী থাকার পর গত ১৫ মে দেশে ফেরে পূর্ণম। এদিন সকাল থেকেই জওয়ানের রিষড়ার বাড়িতে রীতিমতো সাজো সাজো রব। সকাল থেকেই বাড়িতে পূর্ণমের পছন্দের খাবার তৈরিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন তার স্ত্রী রজনী। মা দেবন্তী দেবী ছেলের ফিরে আসার খুশির খবরে সকাল থেকেই ঘরেতে আলপনা দিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। ছেলেকে স্বাগত জানাতে বাড়িতে কেক আনানো হয়। গোটা বাড়ি রঙিন আলোয় আলোকিত হয়ে ওঠে। ছেলের যেহেতু নতুন জন্ম হয়েছে তাই পুনর্জন্মকে স্মরণীয় করে রাখতে কেক কেটে উৎসব পালিত হয়।
শুক্রবার বিকেলে পূর্বা এক্সপ্রেস থেকে হাওড়া স্টেশনে নামার পর বাবা ভোলানাথ সাউকে দেখে জড়িয়ে ধরেন পূর্ণম। এদিন রিষড়া চেয়ারম্যান বিজয় সাগর মিশ্র জওয়ানের বাবা ভোলানাথ সাউকে নিয়ে পূর্ণমকে আনতে সরাসরি হাওড়া স্টেশন পৌঁছে যান। হাওড়া স্টেশনে নেমে পুর্ণমের প্রথম প্রতিক্রিয়া হল দেশবাসীর আশীর্বাদের জন্য তার পুনর্জন্ম হয়েছে। এটাই তার কাছে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি যে দ্বিতীয় বার সে বাবা-মা, স্ত্রী, ছেলের সঙ্গে মিলিত হতে পারছেন। বাবার সঙ্গে নিজের দেশের মাটিতে দাঁড়িয়ে থাকতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করছেন তিনি। পুনরায় সেনাবাহিনীর কাজে যোগ দিতে গেলে মনে কি ভয় জন্ম নেবে-প্রশ্নের উত্তরে পূর্ণম বলেন ভয় পেলে দেশ রক্ষা করা যাবে না। তবে কি করে শত্রু দেশের সীমানার মধ্যে প্রবেশ করলেন এই প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে গিয়ে তিনি বলেন- 'নো কমেন্টস'।
অন্যদিকে জবানের স্ত্রী রজনী দেবী জানান দীর্ঘ বাইশ দিন দিন বন্দী থাকার পর আজ তার স্বামী বাড়ি ফিরছে। তাই আজকে তার জীবনের সবচেয়ে খুশির দিন। তাই আজকে এই খুশির দিনে উৎসবের আনন্দ সকলের সঙ্গে এক সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার জন্য কেক কাটার আয়োজন করেছেন। তাই আজকে এই খুশির দিনে স্বামীর পছন্দের লুচি, ডাল, তরকারি বানানোর পাশাপাশি মিষ্টি দই ও রসগোল্লার ব্যবস্থা করেছেন। তার কাছে আজকে তার স্বামীর পুনর্জন্ম হয়েছে বলে মনে করছেন তিনি।
