বাংলাদেশে আগামী নির্বাচনের দিনক্ষণ নিয়ে এক দিনও এদিক- ওদিক হওয়ার উপায় নেই বলে জানিয়ে দিলেন অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। শুক্রবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এক সভা শেষে সাংবাদিকদের একথা বলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের এই উপদেষ্টা।প্রথম আলোর প্রতিবেদনে একথা জানানো হয়েছে।
অথচ বুধবারই বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই হওয়া উচিত বলে জানিয়ে দিয়ে ছিলেন সেদেশের সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান।ঢাকার সেনানিবাসে অফিসার্স অ্যাড্রেস অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা জানান।সেখানে সেনাপ্রধান আরও জানান যে দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার শুধুমাত্র একটি নির্বাচিত সরকারেরই রয়েছে।
অর্থাৎ সেনাপ্রধানের বার্তায় পরিষ্কার যে সংস্কার, বিচার ইত্যাদির নামে আর নির্বাচন পিছোতে নারাজ তিনি। ক্রমেই দেশে অস্থিতিশীলতার পরিবেশ তৈরি হচ্ছে বলে ইঙ্গিত দিয়ে তা শক্ত হাতে ধরার কথাই বলেছেন সেনাপ্রধান।‘মব ভায়োলেন্স’ প্রসঙ্গে জেনারেল ওয়াকার জানিয়েছেন যে সেনাবাহিনী কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে—উচ্ছৃঙ্খলতা কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না। এমন পরিস্থিতিতে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই ভোট হওয়া নিয়ে সেনাপ্রধানের মতকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। তবে সংস্কার বিষয়ে সেনাপ্রধান জানিয়েছেন, এ বিষয়ে তাকে কিছু জানানো হয়নি বা তার সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়নি।
শুধু সেনাপ্রধান নন, বিএনপি সহ বাংলাদেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল আর দেরী না করে দ্রুত নির্বাচনের পক্ষে।এই বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে জাতীয় সংসদ নির্বাচন না হলে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি সমর্থন ধরে রাখা ‘কঠিন হবে’ বলে সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করেছে বিএনপি।তবে এসবের মধ্যেই বাংলাদেশের রাজনীতিতে সবচেয়ে বেশি আলোড়ন তৈরি হয়েছে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের পদত্যাগের জল্পনায়। বাংলাদেশের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী জানা গেছে যে বর্তমান পরিস্থিতিতে ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করে তিনি জানিয়েছেন যে যদি ঠিকভাবে কাজ করতে না পারেন, তাহলে প্রধান উপদেষ্টার পদে থেকে কী লাভ। বৃহস্পতিবার দুপুরে উপদেষ্টা পরিষদের নিয়মিত বৈঠক শেষে অনির্ধারিত আলোচনায় ক্ষোভ ও হতাশার কথা তুলে ধরেন তিনি।
এই পরিস্থিতিতেই বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে তাহলে কী বিভিন্ন চাহিদা ও দাবি মত বাংলাদেশে ভোট হবে ডিসেম্বরের আগেই? সেনাপ্রধান ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের দাবিকে মান্যতা দেবে ইউনূস প্রশাসন? এই প্রশ্ন উঠতেই উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান জানিয়েছেন, তাঁরা শুধু নির্বাচন করার জন্যই দায়িত্ব নেননি। তার দাবি তাঁদের মাথায় আছে সংস্কার, বিচার, নির্বাচনের মত তিনটে কঠিন দায়িত্ব। তিনি জানান যে প্রধান উপদেষ্টা যে সময় দিয়েছেন, ডিসেম্বর থেকে আগামী জুনের মধ্যে নির্বাচন হবে, সেটাই মেনে চলা হবে, তার এদিক-সেদিক হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
Leave a comment
Leave a comment
