ভারতীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাসে উজ্জ্বল নাম সুচিত্রা সেন। শুধু অভিনেত্রী নয়, একজন ব্যক্তিত্বময়ী নারী ছিলেন তিনি। নিজের নীরবতা দিয়েই নিজেকে কিংবদন্তি গড়ে তুলেছেন সুচিত্রা সেন। রুপে গুনে সবেতেই যেন তিনি অনন্যা, যাঁর হাসিতে মুগ্ধ হত গোটা উপমহাদেশ। কিন্তু মহানায়িকার সৌন্দর্য, শক্তি আর স্নিগ্ধতার গোপন রহস্য কি জানেন? ভেবে দেখেছেন, কিন্তু এই কিংবদন্তির প্রতিদিনের সকাল শুরু হতো কী দিয়ে?
এক কাপ অসাধারণ চা দিয়ে! হ্যাঁ, সুচিত্রা সেনের সকাল শুরু হতো প্রাণ জুড়ানো এক কাপ চা দিয়ে। তবে যে সে চা নয়, পুরনো এক বিনোদন পত্রিকায় প্রকাশিত সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে জানা যায়, এক বিশেষ ধরনের দার্জিলিংয়ের সেকেন্ড ফ্লাশ চা, তার সঙ্গে এক চামচ খাটি মধু আর কয়েক ফোঁটা পাতি লেবুর রস মিশিয়ে খেতেন মহানায়িকা। সেই চায়ের স্বাদ, গন্ধ, রং সব মিলিয়ে যেন সুচিত্রার আত্মবিশ্বাসের জাদুকাঠি হয়ে উঠেছিল।
ঘুম থেকে উঠে লেবু আর মধু মেশানো সেই বিশেষ চা না পেলে সুচিত্রা সেন নাকি রেগে যেতেন। মুড বিগড়ে যেত, দিনটাই যেন শুরুই হতো না ভালোভাবে। ঠিক সেই কারণেই শুটিং লোকেশন যেখানেই থাকুক না কেন, হিমাচলের পাহাড়, কাশ্মীরের উপত্যকা বা দক্ষিণ ভারতের গরম সমভূমি, নিজের সঙ্গে একটি ছোট বাক্স রাখতেন অভিনেত্রী। সেই বাক্সে থাকত দার্জিলিং চা পাতা, লেবু, মধু আর একটি স্টোভ বা হিটার। শুধুমাত্র এক কাপ চায়ের আয়োজনটুকু নিজের কাছে সর্বক্ষণ রাখতেন মহানায়িকা।
সুচিত্রা সেনের সঙ্গে কখনো কখনো সেই চায়ে ভাগ বসাতেন উত্তম কুমারও। বাংলা চলচ্চিত্রের অপর কিংবদন্তি, যাঁর সঙ্গে সুচিত্রার রসায়ন আজও ইতিহাস। তাঁদের জুটির পর্দার পেছনের বন্ধনেও জায়গা করে নিয়েছিল এই স্পেশাল চা। সুচিত্রা নাকি নিজের হাতে উত্তমকে এই চা বানিয়ে খাইয়ে দিয়েছিলেন বহুবার। দু’জন বসে গল্প করতেন, অভিনয়ের পরিকল্পনা হত, আর চলত চায়ের চুমুক।
তবে দার্জিলিংয়ের এই বিশেষ চা কিন্তু এমনি এমনি খেতেন না মহা নায়িকা। দার্জিলিং-এর সেকেন্ড ফ্লাশ চা-তে থাকে প্রাকৃতিক অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট, যা শরীরকে করে তোলে টক্সিনমুক্ত, ত্বকে আনে প্রাকৃতিক উজ্জ্বলতা। মধু শক্তি দেয়, আর লেবুর রস পেট পরিষ্কার রেখে শরীর ও মন রাখে হালকা। এই এক কাপ চা-ই মহানায়িকাকে দিত দিন শুরু করার অনুপ্রেরণা।
