সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়
বাংলার বাড়ি প্রকল্পে দ্বিতীয় কিস্তির টাকা উপভোক্তাদের ব্যাংক একাউন্টে দেওয়া হলেও প্রথম কিস্তির টাকায় প্রকল্পের কাজ কতটা এগিয়েছে সেই সংক্রান্ত জেলাওয়াড়ি রিপোর্ট যথেষ্ট সন্তোষজনক নয়। নিয়ম অনুযায়ী ভিত থেকে লিন্টন পর্যন্ত ঢালাই হওয়ার পরেই দ্বিতীয় কিস্তির টাকা পাওয়ার কথা। প্রায় ১২ লক্ষ উপভোক্তা ইতিমধ্যেই আবাস যোজনা তথা ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পের দুই কিস্তির ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা পেয়েছেন। প্রথম কিস্তির টাকা পাওয়ার পরে কতটা কাজ এগিয়েছে তা দেখার জন্য রাজ্য প্রশাসন থেকে জেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।কেন্দ্র টাকা না দিলেও রাজ্য নিজের উদ্যোগেই গত ডিসেম্বরে প্রথম কিস্তির ৬০ হাজার টাকা দেওয়ার পরে ব্লক স্তরের আধিকারিকদের রিপোর্ট দেওয়ার পরেই দ্বিতীয় কিস্তির টাকা দেওয়ার প্রস্তুতি নেয়।সম্প্রতি উত্তরবঙ্গ সফর থেকে মুখ্যমন্ত্রীর মাধ্যমে দ্বিতীয় কিস্তির ৬০ হাজার টাকা উপভোক্তাদের সরাসরি ব্যাংক একাউন্টে পড়ে। বাংলার বাড়ি প্রকল্পে কত শতাংশ কাজ এগোল তা নিয়ে নবান্নের তরফ থেকে জেলা প্রশাসনের কাছে রিপোর্ট চাওয়া হয়েছিল। নবান্ন সূত্রে খবর, এখনও পর্যন্ত বাংলার বাড়ি প্রকল্পে প্রথম কিস্তির টাকা খরচ করেছেন ৭২ শতাংশ উপভোক্তা। জানা গেছে, প্রায় ১২ লক্ষ উপভোক্তার মধ্যে এখনও পর্যন্ত ৮ লক্ষ ৬৫ হাজার ১৬৪ জন উপভোক্তা প্রথম কিস্তির ৬০ হাজার টাকা পাওয়ার পর ভিত থেকে লিন্টন পর্যন্ত ঢালাই করার কাজ করেছেন বলে নবান্ন সূত্রে খবর।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী দ্বিতীয় কিস্তির টাকা দেওয়া হলেও বেশ কিছু জেলায় বাংলার বাড়ি প্রকল্পে প্রথম কিস্তির শর্ত অনুযায়ী ৯০ শতাংশের বেশি কাজ হয়েছে আবার একাধিক জেলায় প্রথম কিস্তির টাকায় বাড়ি তৈরির ক্ষেত্রে উপভোক্তাদের মধ্যে গড়িমসি স্পষ্ট হয়েছে। সার্বিকভাবে এনিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে নবান্ন। যে সমস্ত জেলাতে প্রকল্পের টাকা পাওয়ার পরেও উপভোক্তারা গড়িমসি করছেন বাড়ি তৈরির জন্য সেক্ষেত্রে গ্রাউন্ড লেভেল ভিজিট করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। ব্লক স্তরের অফিসারদের উপভোক্তার বাড়িতে গিয়ে তাদের সাথে কথা বলতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কেন তাদের কাজে দেরি হচ্ছে তা নিয়ে দ্রুত রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে। তবে উপভোক্তাদের যদি কোন অসুবিধা থাকে বাড়ি তৈরির জন্য সেটা দ্রুত সমাধানসূত্র বার করার জন্য নবান্ন থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে সূত্রের খবর। পাশাপাশি এই প্রকল্পের কাজ পরিদর্শনের কাজ কতটা যথাযথভাবে হচ্ছে প্রশ্ন উঠছে তা নিয়েও।
সরকারি সূত্র অনুযায়ী, পশ্চিম বর্ধমান, নদিয়া জেলায় প্রথম কিস্তির ৬০ হাজার টাকা পাওয়ার পরেই নিয়মমাফিক বাড়ি তৈরিতে পরিকল্পনামাফিক কাজ হযেছে। আবার দক্ষিণ ২৪ পরগনা সহ বেশ কিছু জেলায় এই শতাংশের হার বেশ খানিকটাই কম। রিপোর্ট অনুযায়ী, বাংলার বাড়ি প্রকল্পে ১২ লক্ষ মানুষের কাছে গত ডিসেম্বর মাসে প্রথম কিস্তির ৬০ হাজার টাকা পৌঁছনো ও দ্বিতীয় কিস্তির টাকা ব্যাংক একাউন্টে ঢোকার পরেও দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলায় ৫০ শতাংশের সামান্য বেশি উপভোক্তা প্রথম কিস্তির টাকার কাজ শেষ করেছেন। এই জেলায় ১ লক্ষ ৬৩ হাজার ৫৩৯ জন উপভোক্তার মধ্যে এখনো পর্যন্ত ৮২ হাজারের কিছু বেশি উপভোক্তা ভিত থেকে লিন্টন পর্যন্ত ঢালাই করেছেন। অন্যদিকে কোচবিহারে প্রায় ৬৭ শতাংশ এই প্রকল্পের কাজ হয়েছে। এই প্রকল্পে প্রথম কিস্তির টাকা পাওয়ার পর মুর্শিদাবাদ জেলাতে প্রায় ৬৮ শতাংশ, শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদে ৬৮ শতাংশের বেশি কাজ হয়েছে। দক্ষিণ দিনাজপুর জেলাতে ৪০ হাজার ৪৩ জন উপভোক্তার মধ্যে ২৫ হাজার ১৮৭ জন উপভোক্তা প্রথম কিস্তির ৬০ হাজার টাকায় ভিত থেকে লিন্টন পর্যন্ত ঢালাই করেছেন। শতাংশের বিচারে যা ৬২.৭৫। রিপোর্টে মালদা জেলার ক্ষেত্রে প্রায় ৭০ শতাংশ উপভোক্তা প্রথম কিস্তি টাকা পাওয়ার পর ভিত থেকে লিন্টন পর্যন্ত কাজ করেছেন। প্রসঙ্গত, চলতি অর্থবর্ষের বাজেট পেশের সময় অর্থমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য বাংলার বাড়ি তৈরির জন্য ১২ লক্ষ উপভোক্তাদের দুই কিস্তিতে ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা দেওয়ার অর্থ বরাদ্দের ঘোষণা করেছিলেন।
