সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়
দেশের অন্যতম গণতান্ত্রিক ও সাংবিধনিক প্রক্রিয়া হল নির্বাচন। এই সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক পরিকাঠামোতেই তৈরি হয় দেশ ও দশের ক্ষমতা।
যত দিন যাচ্ছে ততই এই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া যেমন জটিল হচ্ছে তেমনি নিত্যনতুন চ্যালেঞ্জ এর মুখে পড়ছে বিশ্বের সর্ববৃহৎ এই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া। বিশেষ করে তথ্যপ্রযুক্তি ও আইনি জটিলতা নিত্যনতুন চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড় করিয়েছে নির্বাচন কমিশনকে। অতীতেও একাধিক নির্বাচনী বিধি কার্যকর করতে গিয়ে দেশের বিভিন্ন হাইকোর্ট অথবা সুপ্রিম কোর্টে আইনি জটিলতার মুখে পড়তে হয়েছে কমিশনকে। বেশ কিছু ক্ষেত্রে আইনের ফাঁক গলে গণতান্ত্রিক নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে প্রহসনে পরিণত হতে হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে নির্বাচনী বিধি, বিচার বিভাগীয় প্রক্রিয়া এবং নির্বাচন সংক্রান্ত আইনি সংস্কারের পথে হাঁটতে চায় নির্বাচন কমিশন। এই বৈঠক থেকে সমাধানের রাস্তা খূঁজে নির্দিষ্ট রূপরেখা তৈরি করতে সচেষ্ট হন দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার সহ নির্বাচন কমিশনাররা। ২০২৭ সালের মধ্যে ৯ রাজ্য ও একটি কেন্দ্রশাসিত রাজ্যের নির্বাচন রয়েছে। এই অবস্থায় উদ্ভুত জটিলতা কাটিয়ে কিভাবে দেশ ও দশের ক্ষমতায়নের প্রক্রিয়াকে আরও সুচারুভাবে সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে দিল্লির এই বৈঠক যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বলে জানিয়েছে কমিশন।
শনিবারের এই বৈঠকে সব রাজ্যের ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মোট ৩৬ জন মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক এবং সুপ্রিম কোর্ট সহ দেশের ২৮টি হাইকোর্টের গরিষ্ঠ আইনজীবীরা অংশ নেন। আসন্ন নির্বাচনগুলিতে পদ্ধতিগত, রাজনৈতিক, প্রশাসনিক ও বিধিবদ্ধ জটিলতা কাটাতে উন্নত প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে ও একটি সুনির্দিষ্ট আইনি ফ্রেমওয়ার্কের মাধ্যমে রোডম্যাপ তৈরির উদ্যোগ নেয় কমিশন। পাশাপাশি গতকাল শুক্রবার বিভিন্ন নির্বাচনী সংস্কার মূলক পদক্ষেপের পাশাপাশি ECINET নামে নির্বাচন কমিশন যে সিঙ্গল উইন্ডো সিস্টেম তৈরির মাধ্যমে প্রযুক্তিগত ফ্রেমওয়ার্ক তৈরি করেছে তা প্রযুক্তিগতভাবে স্বচ্ছ, অবাধ ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নির্বাচন সম্পন্ন করতে কতটা শক্তিশালী হতে পারে তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
