সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়
‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পের কাজে গড়িমশি বরদাস্ত করা হবে না। উপভোক্তারা ইতিমধ্যেই দুই কিস্তির ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা পেয়েছেন। তাহলে বিভিন্ন জেলায় প্রকল্পের কাজের হার এত কম কেন?
” শুধুমাত্র খাতায়-কলমে নয় গ্রাউন্ড লেভেল ভিজিট করা অত্যন্ত প্রয়োজন। উপভোক্তাদের সমস্যা দেখে সেটা সমাধান করতে হবে অফিসারদের। ” নবান্ন সূত্রে খবর, বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের উদ্দেশ্যে এই নির্দেশ মুখ্য সচিবের। বাংলার বাড়ি প্রকল্পের কাজ নিয়ে সোমবার মুখ্য সচিব মনোজ পন্থ গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছেন পঞ্চায়েত দপ্তরের সঙ্গে। যে সমস্ত জেলাতে প্রকল্পের টাকা পাওয়ার পরেও উপভোক্তারা গড়িমসি করছেন বাড়ি তৈরির জন্য সেক্ষেত্রে গ্রাউন্ড লেভেল ভিজিট করার নির্দেশের পাশাপাশি প্রকল্প পরিদর্শনে কোনও গাফিলতি ছিল কিনা তাও খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই সরকারি রিপোর্টে প্রকাশ যে বাংলার বাড়ি প্রকল্পের কাজ বেশ কিছু জেলায় ৫০ শতাংশের বেশি এগোয়নি। অথচ গত ডিসেম্বরে প্রকল্পের উপভোক্তাদের প্রথম কিস্তির টাকা দেওয়া হয়েছে। ফের সম্প্রতি দ্বিতীয় কিস্তির টাকাও উপভোক্তাদের ব্যাংক একাউন্টে সরাসরি দেওয়ার কাজ শুরু করেছে রাজ্য সরকার। এই প্রকল্পে কেন্দ্রীয় সরকার টাকা দেওয়া বন্ধ করল রাজ্য সরকার নিজের উদ্যোগে উপভোক্তাদের টাকা দেওয়ার ব্যবস্থা করেছে। অথচ বিভিন্ন জেলায় এই প্রকল্পের কাজ গতিহীন কেন তা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন স্বয়ং মুখ্যসচিব। সমস্ত জেলায় এই প্রকল্পের কাজ ত্বরান্বিত করতে নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যসচিব।
উল্লেখযোগ্য, প্রকল্পের নিয়ম অনুযায়ী ভিত থেকে লিন্টন পর্যন্ত ঢালাই হওয়ার পরেই দ্বিতীয় কিস্তির টাকা পাওয়ার কথা। প্রায় ১২ লক্ষ উপভোক্তা ইতিমধ্যেই আবাস যোজনা তথা ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পের দুই কিস্তির ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা পেয়েছেন। প্রথম কিস্তির টাকা পাওয়ার পরে কতটা কাজ এগিয়েছে তা দেখার জন্য রাজ্য প্রশাসনের কাছে যে রিপোর্ট এসে পৌঁছেছে তাতে এখনও পর্যন্ত বাংলার বাড়ি প্রকল্পে প্রথম কিস্তির টাকা খরচ করেছেন ৭২ শতাংশ উপভোক্তা। জানা গেছে, প্রায় ১২ লক্ষ উপভোক্তার মধ্যে এখনও পর্যন্ত ৮ লক্ষ ৬৫ হাজার ১৬৪ জন উপভোক্তা প্রথম কিস্তির ৬০ হাজার টাকা পাওয়ার পর ভিত থেকে লিন্টন পর্যন্ত ঢালাই করার কাজ করেছেন। সরকারি তথ্য অনুযায়ী দ্বিতীয় কিস্তির টাকা দেওয়া হলেও বেশ কিছু জেলায় বাংলার বাড়ি প্রকল্পে প্রথম কিস্তির শর্ত অনুযায়ী ৯০ শতাংশের বেশি কাজ হয়েছে আবার একাধিক জেলায় প্রথম কিস্তির টাকায় বাড়ি তৈরির ক্ষেত্রে উপভোক্তাদের মধ্যে গড়িমসি স্পষ্ট হয়েছে। সার্বিকভাবে এনিয়ে সোমবারের বৈঠকে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন মুখ্যসচিব। ব্লক স্তরের অফিসারদের উপভোক্তার বাড়িতে গিয়ে তাদের সাথে কথা বলতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কেন তাদের কাজে দেরি হচ্ছে তা নিয়ে দ্রুত রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে। তবে উপভোক্তাদের যদি কোন অসুবিধা থাকে বাড়ি তৈরির জন্য সেটা দ্রুত সমাধানসূত্র বার করার জন্য নবান্ন থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে সূত্রের খবর।
সরকারি সূত্র অনুযায়ী, পশ্চিম বর্ধমান, নদিয়া জেলায় প্রথম কিস্তির ৬০ হাজার টাকা পাওয়ার পরেই নিয়মমাফিক বাড়ি তৈরিতে পরিকল্পনামাফিক কাজ হযেছে। আবার দক্ষিণ ২৪ পরগনা সহ বেশ কিছু জেলায় এই শতাংশের হার বেশ খানিকটাই কম। রিপোর্ট অনুযায়ী, বাংলার বাড়ি প্রকল্পে ১২ লক্ষ মানুষের কাছে গত ডিসেম্বর মাসে প্রথম কিস্তির ৬০ হাজার টাকা পৌঁছনো ও দ্বিতীয় কিস্তির টাকা ব্যাংক একাউন্টে ঢোকার পরেও দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলায় ৫০ শতাংশের সামান্য বেশি উপভোক্তা প্রথম কিস্তির টাকার কাজ শেষ করেছেন। এই জেলায় ১ লক্ষ ৬৩ হাজার ৫৩৯ জন উপভোক্তার মধ্যে এখনো পর্যন্ত ৮২ হাজারের কিছু বেশি উপভোক্তা ভিত থেকে লিন্টন পর্যন্ত ঢালাই করেছেন। অন্যদিকে কোচবিহারে প্রায় ৬৭ শতাংশ এই প্রকল্পের কাজ হয়েছে। এই প্রকল্পে প্রথম কিস্তির টাকা পাওয়ার পর মুর্শিদাবাদ জেলাতে প্রায় ৬৮ শতাংশ, শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদে ৬৮ শতাংশের বেশি কাজ হয়েছে। দক্ষিণ দিনাজপুর জেলাতে ৪০ হাজার ৪৩ জন উপভোক্তার মধ্যে ২৫ হাজার ১৮৭ জন উপভোক্তা প্রথম কিস্তির ৬০ হাজার টাকায় ভিত থেকে লিন্টন পর্যন্ত ঢালাই করেছেন। শতাংশের বিচারে যা ৬২.৭৫। রিপোর্টে মালদা জেলার ক্ষেত্রে প্রায় ৭০ শতাংশ উপভোক্তা প্রথম কিস্তি টাকা পাওয়ার পর ভিত থেকে লিন্টন পর্যন্ত কাজ করেছেন।
