সোমের পর মঙ্গল। পাকিস্তানকে ফের হুঁশিয়ারি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর। জম্মু কাশ্মীরে সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ আসলে পাকিস্তানের সুপরিকল্পিত যুদ্ধ কৌশলেরই অঙ্গ বলে নিশানা মোদীর। গুজরাটের গান্ধীনগরের সভা থেকে পাক অধিকৃত কাশ্মীরের কথাও টানলেন মোদী। একই সঙ্গে কটাক্ষ করলেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরুকে। ঘটনাচক্রে মঙ্গলবারই ছিল তাঁর মৃত্যুবার্ষিকী। দাবি করলেন, স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের কথা শোনা হলে বর্তমানে পাক অধিকৃত কাশ্মীর ভারতেরই অংশ থাকত।
১৯৪৭-এ দেশ স্বাধীন হওয়ার সালেই কাশ্মীরের জঙ্গিদের উচিত শিক্ষা দেওয়া উচিত ছিল বলে দাবি মোদীর। তাঁর কথায়, দেশভাগের পর প্রথম যে সন্ত্রাসবাদী হামলা হয়েছিল, তখনই কড়া হাতে তা দমন করা উচিত ছিল। তা না হওয়ায় সন্ত্রাসের সেই ধারা এখনও বয়ে চলেছে। অতীতেও দেশকে কার্যত পক্ষাঘাতগ্রস্ত করে দিয়েছে এই সন্ত্রাসবাদ। পহেলগাও হামলাও সেই সন্ত্রাসেরই পরিণতি।
স্বাধীন ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুকেও নিশানা মোদীর। সন্ত্রাস দমনে তৎকালীন স্বরাষ্টমন্ত্রী সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের পরামর্শ মানা হয়নি বলে অভিযোগ প্রধানমন্ত্রীর। তিনি বলেন, ১৯৪৭ সালে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে পাক অধিকৃত কাশ্মীর পুনর্দখলের যথার্থ সময় থাকলেও প্যাটেলের পরামর্শ মেনে নেয়নি তৎকালীন কংগ্রেস সরকার। তা শোনা হলে পাক অধিকৃত কাশ্মীরে থাকা জঙ্গিদের আগেই নিকেশ করা যেত। আর পাক অধিকৃত কাশ্মীর ভারতের অংশ হত।
মোদী বলেন, “১৯৪৭ সালে ভারতমাতাকে টুকরো করে দেওয়া হয়। পরাধীনতার শেকল কাটতে হত। কিন্তু ভেঙে দেওয়া হল বাহু।” ভারত ভেঙে তিন টুকরো করা নিয়ে অনুতাপ মোদীর। তিনি আরও বলেন, “ওই রাতেই কাশ্মীরে প্রথম জঙ্গি হামলা হয়েছিল। মুজাহিদিনের নাম করে জঙ্গিরা ভারতের একাংশ দখল করে নেয়। সর্দার প্যাটেল বলেছিলেন যতক্ষণ না আমাদের সেনা পাক অধিকৃত কাশ্মীর পুনর্দখল করছে, ততক্ষণ লড়াই না থামাতে। কিন্তু কেউ তাঁর কথা শোনেনি। তারই পরিণতি আমরা গত ৭৫ বছর ধরে ভোগ করছি। পহেলগাঁও হামলাও এমনই একটি উদাহরণ।”
পাকিস্তানের বিরুদ্ধে তোপ দেগে এ দিন প্রধানমন্ত্রী বলেন, “পাকিস্তান বার বার ভারতের কাছে হারে। তারা জানে যে, ভারতের বিরুদ্ধে জেতা যাবে না। অপারেশন সিঁদুর কঠোর পদক্ষেপ ছিল। যাতে কেউ প্রমাণ চাইতে না পারে, তাই সব ক্যামেরার সামনে হয়েছে। পাকিস্তানে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় জঙ্গিদের শেষকৃত্য হয়েছে। এ থেকেই স্পষ্ট, পাকিস্তানের কাছে সন্ত্রাসবাদ যুদ্ধেরই কৌশল।” প্রসঙ্গত, ২ দিনের গুজরাট সফরে গিয়েছেন মোদী। সোমবারও ভূজের সভা থেকে পাকিস্তানকে আক্রমণ করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
