ধর্মের নামে দাঙ্গা বা সন্ত্রাস নয়। সর্বধর্ম সমন্বয় বজায় রেখেই ধর্মাচরণ করতে হবে। রাজ্যের এই ধর্মীয় ঐতিহ্যকে স্মরণ করিয়ে দিয়ে ফের সর্বধর্ম সমন্বয়ের বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার কলকাতার ভবানীপুরে কংসারীপাড়া শীতলা মন্দিরে যান মুখ্যমন্ত্রী। সেখানেই রাজ্যের ধর্মীয় ঐতিহ্যকে মনে করিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন “ধর্ম মানুষকে আপন করে নেয়। ধর্মের মাধ্যমেই সংস্কৃতি চর্চা হয়। ধর্মই শান্তির বার্তা বহন করে।” মূলত ভবানীপুরের এই শীতলা মন্দির এলাকা মুখ্যমন্ত্রীর নিজের বিধানসভা এলাকার অন্তর্গত। স্বাভাবিকভাবেই এই এলাকায় ঘরের মেয়ে হিসেবেই পরিচিত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাই স্থানীয় মানুষজনের আব্দারও মেটাতে হয় মুখ্যমন্ত্রীকে।
স্থানীয়দের দাবি মেনেই ওই এলাকায় ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল তৈরির পাশাপাশি এলাকার ধর্মীয় সংস্কৃতিও মুখ্যমন্ত্রীর নখদর্পণে। এই শীতলা মন্দিরের রাস্তায় মন্দির মসজিদের পাশাপাশি অবস্থান। তাই শীতলা পুজোর প্রাক্কালে সর্বধর্ম সমন্বয়ের বার্তা তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর মতে “বাংলায় একটা বিশেষ গুণ, সর্বধর্ম সমন্বয়। এক একটা রাজ্যের এক এক রকম ভাষা। কলকাতায় আমরা যে ভাষায় কথা বলি, লোকাল একটা টান আছে। আমি বীরভূমের মাটির বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেছিলাম, তার ভাষা অন্যরকম। এই বৈচিত্রের মধ্যে ঐক্যই দেশের ও রাজ্যের সংস্কৃতি। এই সংস্কৃতি আমাদের বজায় রাখতে হবে।”
মুখ্যমন্ত্রী জানান, “মেলা থেকে খেলা সবই উৎসবের পার্বণের মধ্যে পড়ে। স্থানীয় মহিলাদের দুর্গাপুজো হোক বা আসন্ন শীতলা পুজো সুযোগ পেলেই আমি মন্দিরে আসি। ওদের একটা দুটো আক্ষেপ ছিল। সেটা হয়ে গেছে। ওরা খুশি। এখানে বিভিন্ন জায়গায় আমি পায়ে হেঁটে ঘুরি, মন্ডপে মন্ডপে।”
মমতা আরও বলেন কাজকর্মের মধ্যে থাকলে মানুষ ভালো থাকে। সেক্ষেত্রে উল্টোপাল্টা চিন্তা মাথায় আসে না। মানুষের জীবনে কখনো খারাপ সময় কখনোবা ভালো সময় আসবে। কিন্তু দাঙ্গা-সন্ত্রাস থেকে সাধারণ মানুষকে মুক্ত থাকতে হবে এমনটাই বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী।
Jazzbaat24Bangla • Beta
Leave a comment
Leave a comment
