ভারত পাক সংঘর্ষবিরতি নিয়ে বারবার কৃতিত্ব দাবি করে এসেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর এবার মার্কিন আদালতেও হলফনামায় ট্রাম্পের দাবি, আমেরিকার ব্যবসার প্রস্তাবেই ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে বড় যুদ্ধ এড়ানো গিয়েছে। ট্রাম্পের কড়া শুল্কনীতির বিরোধিতায় আদালতে মামলা হয়েছিল। শুল্কনীতির সপক্ষে সওয়াল করতে গিয়ে ভারত-পাক সংঘর্ষবিরতির উদাহরণ টেনে আনলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
এতদিন সোশ্যাল মিডিয়ায় অথবা জনসভায় ভারত-পাক সংঘর্ষবিরতি নিয়ে কৃতিত্ব দাবি করে বক্তৃতা রাখছিলেন ট্রাম্প। আর এবার সরাসরি আদালতেও একই দাবি করে বসলেন তিনি। সার্বিক আমদানির উপর ১০ শতাংশ শুল্ক চাপানোর বিরোধিতায় ও নির্দিষ্ট দেশকে টার্গেট করে করে অতিরিক্ত শুল্ক চাপানো নিয়ে আদালতে মামলা করে একাধিক ক্ষুদ্র ও মাঝারি মানের কোম্পানি। মামলায় অপর পক্ষ ট্রাম্প প্রশাসনের চার ক্যাবিনেট আধিকারিক। তারই সদস্য মার্কিন বাণিজ্য সচিব হাওয়ার্ড ডব্লিউ লুটনিক। ভারত পাক সংঘর্ষবিরতির উদাহরণ টেনে বিবৃতি জমা দিয়েছেন এই লুটনিকই।
ট্রাম্পের এই শুল্কনীতি আরোপের জেরে কূটনৈতিক স্তরে আমেরিকার অবস্থান আরও মজবুত হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে ওই হলফনামায়। শুল্কনীতি কূটনৈতিক হাতিয়ার হয়ে উঠেছে বলে দাবি। আমেরিকা নিজের শর্তে বাণিজ্যচুক্তি করছে। তাই শুল্কনীতি নিয়ে পিছু হঠার প্রশ্নই নেই বলে স্পষ্টতই জানানো হয় হলফনামায়। লুটনিকের মতো শুল্কনীতির পক্ষেই সওয়াল করেন বিদেশ সচিব মার্কো রুবিও, ট্রেজারি সচিব স্কট বেসেন্ট, বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার।
এরপরই হলফনামায় ভারত ও পাকিস্তানের উদাহরণ টেনে আনা হয়। তাতে লেখা হয়, “ভারত ও পাকিস্তান, দুই পরমাণু শক্তিধর দেশ মাত্র ১৩ দিন আগেই সামরিক সংঘাতে জড়িয়েছিল। ১০ মে সংঘর্ষবিরতি হয়। তাও শুধুমাত্র প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দৌলতে। পুরোদমে যুদ্ধ এড়াতে দুই দেশকেই বাণিজ্যের প্রস্তাব দিয়েছিলেন ট্রাম্প। তা নাকচ করার সাহস দেখায়নি ভারত পাকিস্তান। তাতেই যুদ্ধবিরতি সম্ভবপর হয়েছে।”
যদিও ভারতের তরফে স্পষ্টতই জানানো হয়েছে, এমন কোনও বাণিজ্য প্রস্তাব আসেইনি। পাকিস্তানের সঙ্গে সংঘাতের আবহে আমেরিকার সঙ্গে কোনও অফিসিয়াল ফোন কলে এরকম কথা হয়নি বলে সাফ জানিয়েছে ভারত। এর আগেও ভারতের বিদেশমন্ত্রকের তরফে জানানো হয় পারস্পরিক সম্মতিতেই যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছে ভারত ও পাকিস্তান। এতে ট্রাম্পের কোনও ভূমিকাই নেই।
