বড়সড় স্বস্তি মাধবী বুচের। প্রাক্তন সেবি প্রধানকে ক্লিনচিট দিল লোকপাল। হিন্ডেনবার্গ রিসার্চের রিপোর্টের ভিত্তিতে প্রাক্তন সেবি প্রধানের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ সামনে আসে। যদিও তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলিকে ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করল লোকপাল। একইসঙ্গে তদন্তের কোনও প্রয়োজন নেই বলেও জানানো হয়েছে। লোকপালের দাবি, প্রমাণ ছাড়াও মাধবী বুচের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে। এর আগে প্রতারণা সংক্রান্ত মামলায় মুম্বই হাইকোর্টে স্বস্তি পেয়েছিলেন মাধবী বুচ।
লোকপালের চেয়ারপার্সন বিচারপতি এএম খানউইলকরের নেতৃত্বে ছয় সদস্যের বেঞ্চে এই সংক্রান্ত মামলার শুনানি হয়। এই সংক্রান্ত শুনানিতে শেয়ার বাজার নিয়ামক সংস্থা ‘সিকিউরিটিজ় অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ বোর্ড অফ ইন্ডিয়া’র প্রাক্তন প্রধানের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলিকে খারিজ করে লোকপাল জানায়, ‘হিন্ডেনবার্গ রিপোর্ট বুচের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার একমাত্র ভিত্তি হতে পারে না’।
বলে রাখা প্রয়োজন, প্রাক্তন সেবি প্রধান মাধবী বুচের বিরুদ্ধে মারাত্মক অভিযোগ আনা হয় হিন্ডেনবার্গে। আদানি গোষ্ঠীর সঙ্গে মাধবী বুচ এবং তাঁর স্বামীর যোগ রয়েছে বলে দাবি করা হয়। আর সেই যোগাযোগের সুযোগে বিভিন্ন ধরনের সুবিধা পাইয়ে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করা হয় হিন্ডেনাবার্গে। এমনকী ‘গ্লোবাল ডায়নামিক অপরচুনিটি ফান্ড’ নামে একটি সংস্থায় অংশিদারিত্ব আছে বলেও দাবি করা হয়। আর সেখানে গৌতম আদানির ভাই বিনোদ আদানির বড় বিনিয়োগ আছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। আর এই তথ্য সামনে আসার পরেই জাতীয় রাজনীতিতে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়। সরব হন বিরোধীরা।
তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র সহ আরও বেশ কয়েকজন হিন্ডেনবার্গের এহেন তথ্যের ভিত্তিতে লোকপালের দ্বারস্থ হন। শুধু তাই নয়, প্রাক্তন সেবি প্রধানের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছিলেন তিনি। এমনকী এই বিষয়ে তদন্তের জন্য মামলাটি যাতে ইডি কিংবা অন্য কোনও কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার কাছে পাঠানো হয় সেই দাবিও জানানো হয়। কিন্তু এদিন প্রাক্তন সেবি কর্তাকে ক্লিনচিট দিল লোকপাল। যা খুবই তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।
বলে রাখা প্রয়োজন, ২০১৭ সালে শেয়ার বাজার নিয়ামক সংস্থায় যোগ দেন মাধবী বুচ। এরপর ২০২২ সালে সেবি প্রধান হিসাবে দায়িত্ব নেন। যদিও ইতিমধ্যে তাঁর পদ থেকে অবসর নিয়েছেন।
