ইজরায়েলি হামলায় মৃত্যু হয়েছে শীর্ষ হামাস কমান্ডার মোহাম্মদ সিনওয়ারের। চলতি মাসের প্রথম দিকে এমনটাই দাবি করেছিলেন ইজরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ইজরায়ের কাৎজ। বুধবার সেই খবরে সিলমোহর দিলেন খোদ ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। হামাস প্রধান ইয়াহিয়া সিনওয়ারের ছোট ভাই এই মোহাম্মদ সিনওয়ার। গত অক্টোবরে দক্ষিণ গাজায় ইজরায়েলি হামলায় মৃত্যু হয় ইয়াহিয়া সিনওয়ারের।
ইয়াহিয়ার মৃত্যুর পর মোহাম্মদ সিনওয়ারকে হামাস গোষ্ঠীর শীর্ষ স্থানে বসানো হয়েছিল। বুধবার ইজরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী জানান, “দক্ষিণ গাজায় ইউরোপীয় হাসপাতালের নিচে হামাসের একটি ভূগর্ভস্থ কমান্ড কম্পাউন্ড ছিল। সেখানেই মোহাম্মদ লুকিয়ে ছিল বলে গোপন সূত্রে খবর মেলে। সব সূত্র খতিয়ে দেখে হাসপাতালের নিচে কম্পাউন্ডে হামলা চালানো হয়। তাতেই মোহাম্মদ সিনওয়ারের মৃত্যু হয়েছে।” সংসদ সদস্যদের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠকে প্রতিরক্ষা মন্ত্রী এমনটাই জানিয়েছেন বলে সূত্রের খবর।
সৌদির এক সংবাদমাধ্যমে দাবি, সিনওয়ারের মৃতদেহ মিলেছে ওই কম্পাউন্ড থেকে। একইসঙ্গে তার ১০ জন শাগরেদেরও দেহ মিলেছে বলে দাবি। স্রেফ তাই নয়, ওই হামলায় হামাসের ‘রাফা ব্রিগেড’-এর কমান্ডার মোহাম্মদ শাবানারও মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি ইজরায়েলের। নেতানিয়াহু সরকারের আরও দাবি, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইজরায়েলে হামাস যে প্রথম হামলা চালিয়েছিল, তার মাস্টারমাইন্ড ছিলেন ইয়াহিয়া সিনওয়ার। গত অক্টোবরে ইজরায়েলি হামলায় তার মৃত্যু হয়।
১৯৭৫ সালে দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসে জন্ম মোহাম্মদ সিনওয়ারের। দাদা ইয়াহিয়াকে অনুসরণ করেই আশির দশকে হামাসে যোগ দেয় মোহাম্মদ সিনওয়ার। জঙ্গি কার্যকলাপের জেরে ১৯৯১ সালে ইজরায়েলি বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হয় সে। তবে একমাসেরও কম সময় সে জেলবন্দি ছিল। ১৯৯০ এর দশক থেকে একাধিকবার নানা অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে প্যালেস্তাইনে জেলবন্দি হয়েছিল সে। ২০০৬ সালে ইজরায়েলি সেনা গিলাদ শালিটের অপহরণে জড়িত হামাস জঙ্গিদের মধ্যে অন্যতম অপরাধী ছিল এই মোহাম্মদ সিনওয়ার।
