নতুন করে বাংলাদেশ জুড়ে তৈরি হয়েছে আশঙ্কার কালো মেঘ! একদিকে প্রধান উপদেষ্টা পদ থেকে ইউনূসের ইস্তফার জল্পনা, অন্যদিকে দাবি উঠছে দ্রুত নির্বাচনের। আর এর মধ্যেই বাংলাদেশের বুকে শক্তি প্রদর্শন খালেদা জিয়ার দল বিএনপির। একইসঙ্গে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই দেশে নির্বাচন করতে হবে বলে স্পষ্ট বার্তা বিএনপি-র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের। শুধু তাই নয়, দেশের মানুষকে এখন থেকে তৈরি হওয়ার কথাও বলেন তিনি।
বিএনপির তিনটি সহযোগী সংগঠন যুব, স্বেচ্ছাসেবক এবং ছাত্র সংগঠনের ডাকে ‘তারুণ্যের সমাবেশ’ নামে বিশাল এক সমাবেশের ডাক দেওয়া হয় এদিন। আর সেই সভায় ভার্চুয়াল মাধ্যমে বক্তব্য রাখেন খালেদা পুত্র তারেক। একদিকে নতুন প্রজন্মকে রাজনীতিতে এগিয়ে আসার কথা বলেন, অন্যদিকে ওই সভা থেকেই দেশের নির্বাচন করা নিয়ে ইউনূসকে ডেডলাইন বেঁধে দেন বিএনপি নেতা।
তিনি বলেন, ‘ডিসেম্বরের মধ্যেই জাতীয় নির্বাচন করতে হবে। তার প্রস্তুতি এখন থেকে নেতাকর্মীকে নিতে শুরু করতে হবে’। এমনকী কারা প্রতিনিধি হবেন, তা ভোটের মাধ্যমেই দেশের মানুষ চূড়ান্ত করবে বলে বার্তা খালেদা পুত্রের। একইসঙ্গে ইউনূস সরকারকেও একহাত নেন তিনি। বলেন, ‘যে সমস্ত দল গণতন্ত্রে পক্ষে রয়েছে তাদের প্রতিপক্ষ বানাবেন না।’
এমনকী নাম না করে ইউনূসকে একহাত নিয়ে তারেকের বার্তা, ‘আপনাদের কেউ রাষ্ট্র পরিচালনায় থাকতে চাইলে পদত্যাগ করে এসে নির্বাচন করুন। নির্বাচনে জনগণের রায় পেলে সরকারের দায়িত্ব পালন করুন।” এক্ষেত্রে তাঁর পরামর্শ, অন্তবর্তী সরকারের এমন কোনও কাজ করা উচিৎ নয় যে তাতে জনগণের বিশ্বাস ও ভালোবাসা নষ্ট হয়।
এদিন শুধু বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেকই নন, ঢাকার সমাবেশ থেকে মহম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানান বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন আহমেদও। পদত্যাগ নিয়ে যে জল্পনা তৈরি হয় তা নিয়ে তোপ দাগেন। বলেন, “পদত্যাগের নাটক দেখেছে বাংলাদেশের মানুষ”। এর জবাব আগামী নির্বাচনে দেবে দেশের মানুষ।
বলে রাখা প্রয়োজন, আয় বহির্ভূত সম্পদ সংক্রান্ত মামলায় আজ বুধবারই বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে মুক্তি দেয় বাংলাদেশ হাইকোর্ট। আর এরপরেই এদিনের হুঁশিয়ারি যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।
