বিশ্বের সামনে সন্ত্রাসবাদে মদতদাতা পাকিস্তানের মুখোশ খুলে দিতে দেশে-দেশে ঘুরছেন ভারতীয় সর্বদলীয় প্রতিনিধিরা। তেমনই এক দল নিয়ে আমেরিকা, পানামা-সহ একাধিক দেশ ঘুরছেন কংগ্রেস সাংসদ শশী থারুর। থারুরকে নিয়ে কংগ্রেসের মধ্যে মতভেদ থাকলেও, তিনি যে রোজ পাকিস্তানকে তুলোধোনা করে ছাড়ছেন, তা নিয়ে দ্বিমত নেই কোনও মহলেই। ঠিক যেমন পানামায় দাঁড়িয়ে শশী জানালেন, বদলে যাওয়া ভারত চড় খেয়ে অন্য গাল বাড়িয়ে দেবে ভেবে থাকলে, ভুল করছে পাকিস্তান। মহাত্মা গান্ধীর দেশ মুখের মতো জবাব দেবে।
পানামায় ভারতীয় দূতাবাসের অনুষ্ঠানে শশী জানালেন, সন্ত্রাস নিয়ে ভারত আগের মতো নীরব থাকবে না। ২২ এপ্রিল কাশ্মীরের পাহেলগামে যে জঙ্গি হামলা হয়েছিল, তার পিছনে পাকিস্তানের ভূমিকা ছিল। থারুর বলেন, “এই হামলার উদ্দেশ্য ছিল কাশ্মীরের পর্যটন ও অর্থনীতিকে ধাক্কা দেওয়া। পহেলগামে এখন এত পর্যটক আসছেন যে, তা আমেরিকার অ্যাসপেন শহরের থেকেও বেশি! এই উন্নয়ন অনেকের সহ্য হচ্ছে না, আর সেই জন্যই এমন হামলা ঘটছে।”
থারুরের নেতৃত্বে সর্বদলীয় এক প্রতিনিধিদল বর্তমানে ‘অপারেশন সিঁদুর’ নিয়ে বিভিন্ন দেশে ঘুরে ভারতীয় অবস্থান ব্যাখ্যা করছে। পানামায় তাঁরা সে দেশের প্রেসিডেন্ট হোসে রাউল মুলিনো ও বিদেশমন্ত্রী জাভিয়ের মার্টিনেজ আচার সঙ্গে দেখা করেন। সেখানে তাঁরা কিছু ছবি দেখান। যেখানে পাকিস্তানের উচ্চপদস্থ সেনা ও পুলিশ আধিকারিকদের দেখা যাচ্ছে নিহত জঙ্গিদের শেষকৃত্যে অংশ নিতে। অকাট্য প্রমাণ তুলে ধরে থারুর জানান, পাকিস্তান বার বার বলে যে তারা সন্ত্রাসে জড়িত নয়, কিন্তু তাদের এই আচরণ অন্য ইঙ্গিত দেয়।
থারুর জানিয়ে দেন, এই ধরনের সন্ত্রাসবাদী কাজের বিরুদ্ধে ভারত এ বার কঠোর পথেই হাঁটবে। সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে কোনও আপস নয়, বরং প্রত্যাঘাত হবে দ্রুত এবং স্পষ্ট। কেরলের কংগ্রেস সাংসদের কথায়, “এই সফরের মাধ্যমে ভারত আন্তর্জাতিক মঞ্চে একটাই বার্তা দিতে চাইছে, সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ভারত একা নয়, বরং বিশ্ব জনমতের সমর্থন নিয়েই এগোচ্ছে।”
