দিঘায় জগন্নাথ মন্দির দর্শনে গিয়ে দলের সঙ্গে দূরত্ব বাড়িয়েছেন। সেই কারণেই কি আলিপুরদুয়ারে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সভায় ডাক পেলেন না প্রাক্তন সাংসদ দিলীপ ঘোষ? এই জল্পনা যখন মাথাচাড়া দিচ্ছে তখনই নতুন বিড়ম্বনায় বঙ্গ বিজেপি। কারণ, মোদীর বৃহস্পতিবারের সভার জন্য যে বিজ্ঞাপন বেরিয়েছে তাতে ‘গৌরবময় উপস্থিতি’র তালিকায় জ্বলজ্বল করছে বিধায়ক সুমন কাঞ্জিলালের নাম। অথচ, ’২৪-এর ভোটের আগে সুমন বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন!
খারাপ আবহাওয়ার জন্য সিকিম যেতে পারেননি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ভার্চুয়াল মাধ্যমে সিকিমের কর্মসূচিতে হাজির ছিলেন। দুপুরের পর তাঁর আলিপুরদুয়ারে একটি সরকারি প্রকল্পের ভিত্তিস্থাপন করার কথা। তার পর জনসভা। সেই জনসভায় ডাক পাননি দিলীপ ঘোষ। বঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সভায় দিলীপ ডাক পাচ্ছেন না, একে স্বাভাবিক বলে মানতে নারাজ তৃণমূল। তাদের দাবি, দিঘায় গিয়ে জগন্নাথ মন্দির দর্শন এবং তার পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে সস্ত্রীক আলাপচারিতাই দিলীপের ডাক না পাওয়ার কারণ। দিলীপ যদিও নিজে জানিয়েছেন, কলকাতার দিকে সভা হলে তিনি অবশ্যই ডাক পেতেন। একই সঙ্গে স্পষ্ট করে দিয়েছেন, তিনি এখন আর দলের কোনও পদে নেই। সভায় পদাধিকারীরা ডাক পান, তাঁর মতো সাধারণ কর্মীরা নন। বহু যুদ্ধের পোড়খাওয়া খেলোয়াড় দিলীপের এই কথার অনেক মানে খুঁজে পাচ্ছেন পর্যবেক্ষকরা। এই নিয়েই ব্যস্ত ছিল রাজনৈতিক মহল, আচমকাই সামনে এল মোদীর সভার বিজ্ঞাপন। পাতাজোড়া বিজ্ঞাপনে লেখা আছে মোদীর সভায় আর কে কে থাকবেন তার তালিকাও। সেখানেই নাম জ্বল জ্বল করছে আলিপুরদুয়ারের বিধায়ক সুমন কাঞ্জিলালের নাম। যা দেখে হতবাক স্থানীয় বিজেপি নেতাকর্মীরা। কারণ, বছর দু’য়েক আগেই সুমন বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন। ২০২৩ সালে সুমনের হাতে ঘাসফুল পতাকা তুলে দেন সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু দলবদলু সুমনের নাম কেন মোদীর সভার বিজ্ঞাপনে? তার কোনও যুক্তিগ্রাহ্য ব্যাখ্যা দিতে পারেনি স্থানীয় বিজেপি। কেউ বলছেন ভুল করে, কেউ আবার যুক্তি দিয়ে বোঝানর চেষ্টায় ব্যস্ত, জনপ্রতিনিধি বলেই ডাক পেয়েছেন সুমন, দলটা বিবেচ্য নয়। কিন্তু তাতে চিড়ে ভিজছে না। এখনও এ নিয়ে সুমন নিজে কিছুই বলেননি। যদিও সুমনের ইদানীং আবার মনবদল হয়েছে বলেও খবর নেই আলিপুরদুয়ারে। ওই বিজ্ঞাপনে নাম আছে উত্তরবঙ্গ থেকে রাজ্যসভার সাংসদ অনন্ত মহারাজের নামও। ইদানীং তাঁর সঙ্গে রাজ্য বিজেপির সম্পর্ক ‘মধুর’। মোদীর সভার দিন এমন অস্বস্তিতে অনেকেই আঙুল তুলছেন বঙ্গ বিজেপির ভঙ্গুর সংগঠনের দিকে।
