দুপুর ২টো বাজার একটু পরে মাইক হাতে নিলেন। শেষ করলেন ঠিক ২৮ মিনিট পর। গোটা ভাষণে ১১ বার নিলেন তৃণমূলের নাম কিন্তু একবারও নরেন্দ্র মোদীর মুখে শোনা গেল না তৃণমূলের সর্বময় নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম। নিয়োগ দুর্নীতি থেকে মালদা-মুর্শিদাবাদের হিংসা, চা বাগানের সমস্যা— মোদী ছুঁয়ে গেলেন সব ইস্যু। কিন্তু আলিপুরদুয়ারের সভা থেকে প্রত্যাশিত অক্সিজেন কি পেল বঙ্গ বিজেপি?
কথা ছিল, ২০২৬ সালে বাংলায় বিধানসভা ভোটের বিউগল বাজাবেন। শুরুটা তেমনই করেছিলেন মোদী। নিজের ২৮ মিনিটের ভাষণের সিংহভাগ খরচ করলেন বাংলার সরকারের সমালোচনায়। তাতে একে একে উঠে এল মালদা-মুর্শিদাবাদের হিংসা থেকে আদিবাসী, তফসিলি জাতি-উপজাতিদের প্রতি রাজ্য সরকারের বঞ্চনার অভিযোগ। সরাসরি তৃণমূলকে দায়ী করে ভাঙা ভাঙা বাংলায় বললেন, “এই ভাবে সরকার চলে কি?” কিন্তু সরকারের প্রধান তথা মুখ্যমন্ত্রীর নাম একবারও মুখে আনলেন না প্রধানমন্ত্রী মোদী। যদিও মমতার সরকারকে ‘নির্মমতার সরকার’ বলে বিঁধেছেন একাধিকবার। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই রাজ্যের প্রাপ্য চেয়ে তৃণমূল নেমে পড়েছে মোদী বিরোধী প্রচারে। কী ভাবে তৃণমূল সরকার মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে ছড়িয়ে দেওয়া হয় সেই বিজ্ঞাপনও। মঞ্চে বলতে উঠে মোদী যেন তার জবাব দিলেন নিজের মতো করে, সব দিক বাঁচিয়ে। মোদীর অভিযোগ, কেন্দ্রের একাধিক প্রকল্পের উপর তৃণমূল সরকার চেপে বসে আছে। দলিত, আদিবাসীদের উন্নতিতে কোনও নজর দেয় না তৃণমূল সরকার। মোদীর কথায়, “এখানে কোর্ট মাঝখানে না এলে কোনও সমস্যার সমাধান হয় না। তৃণমূল সরকারের উপর মানুষের আর ভরসা নেই।” তৃণমূল কেমন দলিত বিরোধী তা বোঝাতে মোদী টেনে আনেন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রসঙ্গ। বলেন, “দেশের প্রথম আদিবাসী রাষ্ট্রপতির বিরোধিতা প্রথম করেছিল তৃণমূলই।” নীতি আয়োগের বৈঠকে যোগ না দেওয়া নিয়েও কটাক্ষ করেন মোদী। কিন্তু গোটা ভাষণে একবারও শোনা গেল না মোদীর মুখে মমতার নাম।
এই সভা থেকেও পাকিস্তানকে আক্রমণে অবশ্য কসুর করেননি প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “সিঁদুরখেলার মাটিতে এসেছি যখন, তখন পহেলগাম আর তারপর জঙ্গি দমন নিয়ে আলোচনা করাটাই স্বাভাবিক।” পাকিস্তানকে এর আগে তিন বার ভারত ঘরে ঢুকে মেরেছে, জানান মোদী। তারপর বলেন, “বেঙ্গল টাইগারের মাটি থেকে ১৪০ কোটি ভারতীয় ঘোষণা করছে, ‘অপারেশন সিঁদুর’ এখনও শেষ হয়নি। ভারতের মাটিতে কোনও জঙ্গি হামলা হলে তার কঠিন মূল্য চোকাতে হবে পাকিস্তানকে।”
সব শেষে, বাংলায় বিজেপির সরকার গড়তে কর্মী-সমর্থকদের কোমর বেঁধে নামার নির্দেশ দেন মোদী। গণতন্ত্রে বাংলার মানুষের ভরসা ফেরানোই হবে বিজেপির কাজ, জানিয়ে দেন। কিন্তু প্রত্যাশিত অক্সিজেন পেলেন কি বঙ্গ বিজেপির নেতৃত্ব? সেই প্রশ্ন কিন্তু রয়েই গেল।
